ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » বাজারে মিলছে না এলপিজি, গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম

বাজারে মিলছে না এলপিজি, গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি আড়াই শ থেকে প্রায় সাত শ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম হেঁকেও বাজারে মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। কক্সবাজার, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম উঠে গেছে ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। তীব্র এই সরবরাহ সংকট ও নৈরাজ্যের মাঝেই কমিশন বৃদ্ধি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর ২০২৬) সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও চরম রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে, বিইআরসির নির্ধারিত ওই মূল্যে দেশের কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো গ্রাহকদের সিলিন্ডারপ্রতি ৫০০ থেকে ৬৬৩ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে।

বিভিন্ন জেলায় দামে চরম নৈরাজ্য

  • কক্সবাজার: জেলা শহরটির পাহাড়তলী, বাহাড়ছড়া, কলাতলী ও বাস টার্মিনাল এলাকার বাজারে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দুদিন আগে ১ হাজার ৭০০ টাকায় কেনা ১২ কেজির সিলিন্ডার মঙ্গল ও বুধবার কিনতে গিয়ে গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা।

  • নরসিংদী: জেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। এ ছাড়া ৫.৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ২০০ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং ৪৫ কেজির বড় সিলিন্ডার ৭ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় অনেক রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়িতে গ্যাস না পেয়ে চূল বন্ধ থাকার উপক্রম হয়েছে।

  • কিশোরগঞ্জ: শহরের খরমপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার বিপরীতে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়।

সরবরাহ কমানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ, আমদানিকারক ও অপারেটর কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আমদানিকারকরা বাজারে সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের পর অনেক ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারের পরিবেশক সমিতির নেতারা জানান, কোম্পানিগুলো ডিলারদের কাছেই বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে, কিন্তু ক্রয়ের রসিদে বা ভাউচারে নির্ধারিত কম মূল্যই লিখে দিচ্ছে। ফলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। সংগঠনটির দাবি, দেশে এলপিজি আমদানি ও মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম রোধে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধের ডাক

এদিকে সরবরাহ সংকটের মধ্যেই আজ বুধবার এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, তাদের ঘোষিত দাবি না মানলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও পরদিন শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।

সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান জানান, পরিবেশকদের কমিশন সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি ক্রয়ের আসল চালানে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা, পরিবহন খরচ প্রদান করা এবং অহেতুক প্রশাসনিক জরিমানা বন্ধসহ তাঁদের ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এমনিতেই আমদানিকৃত গ্যাসের সরবরাহে মারাত্মক সংকট রয়েছে; তার ওপর টানা দুদিনের ধর্মঘট পালিত হলে বাসাবাড়ির রান্নাবান্না ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিপর্যয় নেমে আসবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে