গত বছর অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের মধ্যকার দুই ম্যাচে ছিল রানবন্যা; ছয় সেঞ্চুরির পাশাপাশি একটি দ্বিশতকও দেখা যায় সেখানে। রান উৎসবের কারণে দ্বিতীয় ম্যাচে তো চার দিনে দুই ইনিংসই শেষ করা সম্ভব হয়নি! এই মাঠের উইকেটের সঙ্গে প্রবল বাতাস ও বিশাল স্কয়ার বাউন্ডারি মাথায় রেখেই ডারউইন টেস্টের চূড়ান্ত ছক কষছে বাংলাদেশ।গত বছর অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের দুই টেস্টে ডারউইনে প্রচুর রান উঠেছিল—হয়েছিল ৬টি সেঞ্চুরি ও একটি ডাবল সেঞ্চুরি। উইকেটের সেই ব্যাটিং বান্ধব আচরণের পাশাপাশি মাঠের বড় স্কয়ার বাউন্ডারি ও প্রবল বাতাসকেও হিসেবের মধ্যে রাখছে বাংলাদেশ। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই প্রথম টেস্টের একাদশ ও কৌশল তৈরি করছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ডারউইনে অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম দিনের প্রস্তুতিতে সবুজ ঘাসের উইকেটের বাউন্সে সন্তুষ্ট ক্রিকেটাররা। বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম জানান, উইকেট, ফিল্ডিং ও রানিং—সব মিলিয়ে দলের প্রথম দিনের অনুশীলন ইতিবাচক হয়েছে।
বাংলাদেশ দলের অনুশীলন চলছে ডিএক্সসি অ্যারেনায়, যা প্রথম টেস্টের ভেন্যু টিআইও স্টেডিয়াম থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটার দূরত্বে। সিঙ্গাপুরে যাত্রাবিরতির পর দলের বাকি সদস্যরাও ডারউইনে পৌঁছেছেন। ফলে পরদিন থেকে পুরো দল একসঙ্গে প্রস্তুতি শুরু করার কথা। ৮-১১ আগস্ট একই মাঠে সিরিজের আগে বাংলাদেশের একমাত্র তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
আগস্টের শুরুতে ডারউইনের আবহাওয়া গরম হলেও আর্দ্রতা তুলনামূলক কম। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের শীতকালের হালকা গরমের মতো অনুভূতি হচ্ছে সেখানে, যা অনুশীলনের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়াও শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামবে। প্রস্তুতি ম্যাচে ‘অস্ট্রেলিয়া একাদশ’-এর হয়ে খেলবেন তিন টেস্ট-অভিজ্ঞ ক্রিকেটার- স্যাম কনস্টাস, কার্টিস প্যাটারসন ও জশ ফিলিপ। যদিও তাঁরা কেউই মূল টেস্ট স্কোয়াডে নেই।
বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে সিরিজের দুই ভেন্যু- ডারউইন ও ম্যাকাই। ডারউইনে সর্বশেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৪ সালে, আর এবারের দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন হচ্ছে। ফলে দুই মাঠই আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অনেকটাই অপরিচিত।
বর্তমান দলে ২০০৩ সালের ডারউইন টেস্ট খেলা কোনো ক্রিকেটার নেই। তবে ওপেনার তানজিদ হাসান ও পেসার হাসান মাহমুদ টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে টিআইও স্টেডিয়ামে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা দলের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।
