স্পোর্টস ডেস্ক:
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে মারকাস র্যাশফোর্ডের ভবিষ্যৎ কী? ওল্ড ট্রাফোর্ডে কি তার পুনর্বাসন সম্ভব, নাকি ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগেই তিনি দল ছাড়বেন?
স্কাই স্পোর্টসের একটি বিশেষ সামার পডকাস্টে উপস্থাপক জো টমলিনসনের সাথে যুক্ত হয়ে স্কাই স্পোর্টস নিউজের ড্যান খান এবং ফুটবল সাংবাদিক উইলিয়াম বিটিবিরি আলোচনা করেন র্যাশফোর্ডের ভবিষ্যৎ, রেড ডেভিলদের মিডফিল্ড পুনর্গঠন এবং নিউক্যাসলের লেফট-ব্যাক লুইস হলকে দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে কি ফিরবেন মারকাস র্যাশফোর্ড?
বিশ্বকাপ এবং বার্সেলোনায় ধারে (Loan) খেলার পর র্যাশফোর্ড ক্যারিংটনে (ইউনাইটেডের ট্রেনিং গ্রাউন্ড) ফিরবেন। তবে বার্সেলোনা ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডের ‘বাই-আউট ক্লজ’ সক্রিয় না করায় বিপাকে পড়েছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। লা লিগা শিরোপা জেতার পর র্যাশফোর্ড মিডিয়াকে বলেছিলেন, তার হাতে জাদু থাকলে তিনি বার্সেলোনাতেই থেকে যেতেন। কিন্তু কয়েক মাস পর দেখা যাচ্ছে তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
গত বছর যে স্থান থেকে বিদায় নেওয়ার অনুভুতি হয়েছিল, তাকে আবারও সেখানেই ফিরতে হচ্ছে। এখন বড় প্রশ্ন—নতুন ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিক তার সাবেক সতীর্থকে কিভাবে ব্যবহার করবেন? প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুমে র্যাশফোর্ডকে কি তিনি তার পরিকল্পনায় রাখবেন?
ড্যান খান বলেন:
“একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ব্রুনো ফার্নান্দেসের পর ইউনাইটেড স্কোয়াডে যদি কোনো প্রকৃত তারকা ফুটবলার থেকে থাকেন, তবে তিনি মারকাস র্যাশফোর্ড। আমরা দেড় বছর ধরে তাকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে দেখিনি। এর মধ্যে তিনি দুটি ভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এটা স্পষ্ট যে, ইউনাইটেডে ফেরার ব্যাপারে তিনি খুব একটা উদগ্রীব ছিলেন না। তবে যাই হোক না কেন, তিনি এখনও একজন বিশ্বমানের ফুটবলার।”
লুইস হলের দিকে নজর ইউনাইটেডের
লুক শ’র ফিটনেস এবং টানা ম্যাচ খেলার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় একজন নতুন লেফট-ব্যাক খোঁজা ইউনাইটেডের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই তালিকায় উঠে এসেছে নিউক্যাসলের লুইস হলের নাম।
ড্যান খান এ বিষয়ে জানান:
“আমরা মার্চ মাসে যখন প্রথম হলের নাম প্রকাশ করি, তখন অনেকেই হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। নিউক্যাসল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠতে না পারা, কোচ পরিবর্তন এবং আর্থিক নিয়মের কারণে লুইস হলকে কেনা এখন ইউনাইটেডের জন্য বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্য মনে হচ্ছে। নিউক্যাসল তাকে ছাড়তে না চাইলেও তিনি তাদের ‘অপরিহার্য’ কেউ নন।”
মিডফিল্ডের সমীকরণ: প্রারম্ভিক একাদশে কারা?
চলতি দলবদলে আন্দ্রে সান্তোস এবং ইউরি তিলেমান্সকে সই করিয়ে নিজেদের মিডফিল্ড শক্তিশালী করেছে ইউনাইটেড। তবে আগামী ২২ আগস্ট হাল সিটির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মেসন মাউন্ট, ব্রুনো ফার্নান্দেস, কোবি মাইনুর পাশাপাশি কারা সুযোগ পাবেন?
জো টমলিনসনের মতামত:
“তিলেমান্স যেহেতু বিশ্বকাপ খেলে দেরিতে যোগ দিয়েছেন, তাই শুরুতেই তাকে একাদশে দেখলে অবাক হব। প্রাক-মৌসুম পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আন্দ্রে সান্তোসের পাশে মেসন মাউন্টকে দেখা যেতে পারে। তবে মৌসুম বাড়ার সাথে সাথে মাইনো ও তিলেমান্স একাদশে নিয়মিত হবেন বলে মনে হয়।”
উইলিয়াম বিটিবিরির মত:
“মেসন মাউন্ট এমন একজন খেলোয়াড় যাকে সব ম্যানেজারই পছন্দ করেন। তার কাজের মানসিকতা চমৎকার। তাকে শুধু ১০ নম্বর পজিশন নয়, গভীরে (Deep No 8) খেলানোও সম্ভব। গত মৌসুমের শেষে ব্রাইটনের বিপক্ষে এবং চলতি প্রাক-মৌসুমে মাইকেল ক্যারিকের অধীনে তিনি সেই ভূমিকা দারুণভাবে পালন করেছেন। তাই প্রথম ম্যাচে তার শুরু করাটা যৌক্তিক।”
তথ্যসূত্র: স্কাই স্পোর্টস
