নবপ্রকাশ ডেস্ক:
জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর তোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আসন্ন এই দ্বিপক্ষীয় সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বড় আকারের বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সফরে উভয় দেশের মধ্যে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে, যার মধ্যে অন্তত চারটি চুক্তি ও সমঝোতা চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার জোরালো প্রত্যাশা করছে ঢাকা।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বহুল প্রতীক্ষিত এই জাপান সফরের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব জানান, “পরবর্তী মাসে (২৪ নভেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণ বা গ্র্যাজুয়েশন ঘটতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রীর এই জাপান সফর উভয় দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন সময়োপযোগী ও কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সফরে গতানুগতিক বিনিয়োগের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষ কর্মী রপ্তানির মতো উদীয়মান খাতগুলোতে সহযোগিতার নতুন রূপরেখা ও স্মারক বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সফরের হাইলাইট ও দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তা, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এছাড়া সফরকালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা/JICA) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাপানি শীর্ষ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে কি-নোট বক্তব্য প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২৯ অক্টোবর তাঁর সফর শেষ করে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
