ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ২৪ বছর পর আলোচনায় ‘ফায়ার’ সিনেমা ও মান্না

২৪ বছর পর আলোচনায় ‘ফায়ার’ সিনেমা ও মান্না

বিনোদন ডেস্ক:

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বই ও ২০০০-এর দশকের মূলধারার সুপারস্টার প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না তাঁর ক্যারিয়ারজুড়ে চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা ও কাটপিসের বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর অভিনীত ‘ফায়ার’ সিনেমায় অশ্লীলতার অভিযোগ ওঠায় সে সময় মারাত্মক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল এই অভিনেতাকে। সিনেমাটি মুক্তির দীর্ঘ ২৪ বছর পর সম্প্রতি চিত্রনায়ক মান্নার একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা সেই বিতর্কের পেছনের অজানা তথ্য উন্মোচন করেছে।

মান্নার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র’ সূত্রে প্রাপ্ত ওই ভিডিও চিত্রে অভিনেতাকে স্পষ্ট করে বলতে শোনা যায়, ‘ফায়ার’ চলচ্চিত্রের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করার পরই তিনি প্রকল্পটি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন। এমনকি ছবিটির শেষ অংশের শুটিং কিংবা ডাবিংয়েও তিনি অংশ নেননি।

প্রকাশিত ভিডিওতে মান্না বলেন, “‘ফায়ার’ নামে যে ছবিটি আমি করেছিলাম, সেই ছবিতে অর্ধেক কাজ করার পরে আমি আর কাজ করিনি। এমনকি আমি সিনেমায় ভয়েসও দিই নাই, ডাবিংয়েও যাই নাই। বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমি সব সময় অশ্লীলতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি।”

ভিডিওতে কোনো প্রকার অশ্লীল দৃশ্য ধারণে অংশ নেওয়ার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে মান্না চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “পুরো সিনেমায় আমার কো-আর্টিস্ট বা অন্য শিল্পীরা এবং ডিরেক্টর, প্রযোজক কে কী করছে, সেটা আমার পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমি নিজে কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করিনি।” একপর্যায়ে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে একক লড়াইয়ে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ার কথাও ব্যক্ত করেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের এই প্রতিবাদী কণ্ঠ।

এ বিষয়ে প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী শেলী মান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সিনেমাটি মুক্তির পর এতে কাটপিস বা অশ্লীল দৃশ্য সংযোজনের অভিযোগে মান্না চরম ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হয়েছিলেন। শেলী মান্না বলেন, “মান্না বুঝতে পেরেছিল তার অজান্তে এমন কিছু অপ্রাসঙ্গিক দৃশ্য জোড়া দেওয়া হচ্ছে যা তার কাজের দর্শনের সঙ্গে যায় না। প্রযোজক ও পরিচালকের সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ায় সে ছবি থেকে সরে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে নির্মাতা ডামি অভিনেতা ব্যবহার করে মান্নার অনুপস্থিতিতেই বাকি দৃশ্য ধারণ করে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেন।” জেনেশুনে মান্না কখনো এমন চলচ্চিত্রে কাজ করেননি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্রের সেই অন্ধকার সময়ে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে মান্নার যুদ্ধটা ছিল একেবারেই একার।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৎকালীন পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, সে যুগে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে কিছু অসাধু চক্র মূল সিনেমার ভেতরে অশ্লীল দৃশ্য যুক্ত করত। মান্না শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে অন্যান্য কলাকুশলীদের নিয়ে সুস্থ ধারার সামাজিক চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ‘ফায়ার’ ছবির শিডিউল জটিলতা ও অশ্লীলতার আপত্তির কারণেই তিনি প্রযোজকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফায়ার’ ছবিটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছিলেন মোহাম্মদ হোসেন, যেখানে মান্নার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন পলি। বর্তমানে পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন দেশের বাইরে অবস্থান করায় এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে