ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরে চালু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম

২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক স্তরে চালু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী করতে ২০২৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, “৫০ বছর আগের কারিকুলাম দিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব নয়। তাই সময়ের বাস্তবতায় শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজন আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাক্রম।”

রোববার (১৭ মে) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও Room to Read–এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত “প্রাথমিক স্তরের বাংলা ভাষা শিক্ষার দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং” সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরে ভাষা শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের মূল ভিত তৈরি হয় প্রাথমিক পর্যায়ে। এ সময় সঠিকভাবে ভাষা শেখানো না গেলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, শুদ্ধ ভাষা চর্চা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাকে আনন্দময় ও কার্যকর করে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে গুরুত্ব দেওয়া হবে দক্ষতা অর্জন, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান সক্ষমতা এবং বাস্তবজীবনভিত্তিক শিক্ষার ওপর। শিক্ষার্থীরা যাতে শেখার বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারে, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হবে।

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে। শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতি চালু, মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ এবং নিয়মিত মূল্যায়ন কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো হবে।

বর্তমান পাঠ্যবইয়ের আকার ও উপস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “একজন ছয় বছরের শিশুর হাতে বড় আকারের বই তুলে দিলে তার মধ্যে শেখার আগ্রহ কমে যায়। তাই ছোট ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই, আকর্ষণীয় উপস্থাপনা এবং আনন্দমুখর শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি জানান, ভবিষ্যৎ শিক্ষাক্রমে শিশুদের মানসিক বিকাশ, ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তি-সচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নে শুধু পরীক্ষার ফল নয়, বাস্তব দক্ষতা ও শেখার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের একমাত্র মাপকাঠি হবে লার্নিং আউটকাম। শিক্ষার্থী বাস্তবে কতটুকু শিখছে এবং তা প্রয়োগ করতে পারছে— সেটিই হবে সফলতার মূল সূচক।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শাহীনা ফেরদৌসী, দেবব্রত চক্রবর্তী, ফরিদ আহমেদসহ প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জে আই আর

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে