আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফ্রান্সের আকাশচুম্বী ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের শঙ্কা ও উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর গত ১৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে শক্তিশালী মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর মূল্যমান ০.৬ শতাংশ হ্রাস পায়। ফলে দর নেমে দাঁড়ায় প্রতি ইউরো ১ দশমিক ১১৬৪ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় মূল্যমান প্রায় ১৩৮ টাকা। ২০২৫ সালের মার্চের পর বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারে ইউরোর ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় দরপতনের ঘটনা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ফ্রান্সের সরকারি বন্ডের সুদে নজিরবিহীন ওঠানামা আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরোর ওপর নতুন করে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। গত শুক্রবার ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ জার্মানির একই মেয়াদি বন্ডের তুলনায় একপর্যায়ে রেকর্ড ১৫৯ বেসিস পয়েন্ট বেশি ব্যবধানে গিয়ে পৌঁছায়; পরবর্তীতে ব্যবধান সামান্য কমে ১৪১ বেসিস পয়েন্টে স্থির হয়। প্যারিস ও বার্লিনের মধ্যে বন্ডের সুদের এই ঐতিহাসিক ব্যবধান নির্দেশ করে যে, ফ্রান্সের অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা গভীর সংশয়ে রয়েছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ একপর্যায়ে লাফিয়ে প্রায় ৫ শতাংশে উঠে যায়। এর সোজাসাপ্টা অর্থ হলো, দেশটির ইস্যু করা ঋণপত্র ধরে রাখার ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত সুদের দাবি করছেন, যা প্যারিসের সার্বিক রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করেছে।
এর পাশাপাশি ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে গড়ে ওঠা আগাম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও ইউরোজোনের অর্থবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ফরাসি অর্থনীতির এই স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা ইউরোজোনভুক্ত অন্য ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর ওপরও সংক্রামক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ইউরোর অব্যাহত দরপতনের পেছনে মার্কিন ডলারের বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী অবস্থানের ভূমিকাও অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের সাম্প্রতিক উপাত্ত প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা দুর্বল হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে চলতি মাসে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিতে পারে এমন সম্ভাবনাও ক্ষीण হয়ে আসায় শক্তি বজায় রেখেছে ডলার।
