ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ১৩ মাসের শিশু বিক্রি: দাদা-দাদিসহ গ্রেপ্তার ৫

১৩ মাসের শিশু বিক্রি: দাদা-দাদিসহ গ্রেপ্তার ৫

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দোহার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকে। এই মানব পাচারের ঘটনায় শিশুটির দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত পিতা নাঈম মিয়া আত্মগোপনে থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোররাতে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকায় এক প্রযুক্তিভিত্তিক যৌথ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শিশুটির দাদা উজ্জ্বল মিয়া (৫০), দাদি আয়েশা খাতুন (৪৫), ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং দোহারের বাসিন্দা ক্রেতা আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী শিখা (৩৫)। আবেদ ও শিখা দম্পতির কাছ থেকেই নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ঈশ্বরগঞ্জের মাইজহাটি এলাকার নাঈম মিয়ার (২৫) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রোজিনা বেগম (২১)। তাঁদের একমাত্র সন্তান মোজাহিদের বয়স ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে নির্যাতন করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং শিশুটিকে নাঈম ও তাঁর পরিবার জোরপূর্বক নিজেদের কাছে রেখে দেয়। জীবিকার তাগিদে বর্তমানে গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত রয়েছেন ভুক্তভোগী রোজিনা।

সম্প্রতি স্থানীয়দের মাধ্যমে রোজিনা বেগম জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ২ লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরদিন তিনি সন্তানকে ফেরত চাইতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাঁকে মারধর ও গালাগাল করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা মা গত সোমবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির পর ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটির অবস্থান ঢাকার দোহারে শনাক্ত করে এবং বুধবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার নিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানান, “যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের কোনো সন্তান ছিল না। লালন-পালনের উদ্দেশ্যে তারা অর্থ লেনদেন করে শিশুটিকে গ্রহণ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তবে কোনো সন্তানকে এভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তর করা বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।”

ওসি আরও জানান, শিশুটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে সুরক্ষিত ও সুস্থ রয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে তার মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে