ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ১০ বছরের পথচলা শেষে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত প্রীতম-শেহতাজের

১০ বছরের পথচলা শেষে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত প্রীতম-শেহতাজের

বিনোদন ডেস্ক:

গানের মিউজিক ভিডিওর সেট থেকে পরিচয়, সেখান থেকে ভালো লাগা, প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে। সম্পর্কের সূচনাটা যেন ছিল রূপকথার গল্পের মতো। তবে দীর্ঘ ১০ বছরের সেই আবেগঘেরা পথচলার শেষটা হলো ভিন্ন এক মোড়ে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার কথা জানালেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান এবং মডেল-অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেম।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্টে নিজেদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন এই তারকা দম্পতি। আবেগ ও পারস্পরিক সম্মানে ভরা দুটি বার্তাতেই তারা জানান, হঠাৎ কোনো আবেগের বশে নয়, বরং দীর্ঘ ভাবনা-চিন্তা এবং উভয় পরিবারের সম্মতি ও সমর্থন নিয়েই তারা আলাদা হওয়ার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

প্রীতম হাসান তার পোস্টে লেখেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই তারা দীর্ঘ ১০ বছরের যৌথ জীবনের ইতি টানছেন। বর্তমানে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং আগামীতে তারা জীবনের নতুন অধ্যায়ে আলাদাভাবে এগিয়ে যেতে চান।

অন্যদিকে শেহতাজও প্রায় একই রকম অনুভূতি ব্যক্ত করে জানান, একসঙ্গে কাটানো মূল্যবান সময় ও স্মৃতির জন্য তিনি চিরকৃতজ্ঞ। বিচ্ছেদ হলেও দুজনের প্রতি দুজনের যত্ন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা অমলিন থাকবে। তবে সময়ের পরিক্রমায় তারা উপলব্ধি করেছেন, বোঝাপড়ার কিছু মৌলিক পার্থক্যের কারণে নিজ নিজ পথে আলাদাভাবে এগিয়ে যাওয়াই উভয়ের জন্য কল্যাণকর।

সূচনাটা ছিল ‘জাদুকর’ দিয়ে প্রীতম ও শেহতাজের প্রেমের গল্পের সূত্রপাত ২০১৭ সালে। প্রীতমের জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাজ করেছিলেন শেহতাজ। ক্যামেরার সামনের সেই কাজের পরিচয়ই ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিণতি পায়। কাজের সূত্রে জমে ওঠা ভালো লাগা রূপ নেয় সুগভীর প্রেমে।

পাঁচ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছিল প্রীতমের নিজস্ব ভঙ্গিমা—আড়ম্বর না করে সরাসরি শেহতাজের মায়ের কাছে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। দুই পরিবারের সম্মতিতেই ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মনোরম চা-বাগানঘেরা এক রিসোর্টে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বসে তাদের বিয়ের শুভ আসর। তাদের সেই রূপকথাঘেরা বিয়ের ছবি ও ভিডিও তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল।

সম্পর্কের ঝুলিতে মধুর স্মৃতি বিয়ের পরও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজন একসঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো শেয়ার করতেন। প্রীতম-শেহতাজ দম্পতি ভক্তদের কাছে ছিলেন অন্যতম অনুপ্রেরণা। এক ঈদের সময় স্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা সালামি দেওয়ার খবর যেমন প্রীতম শেয়ার করেছিলেন, তেমনই শেহতাজও জানান অর্থের চেয়েও প্রীতমের ভালোবাসাটাই তার কাছে প্রধান। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও শেহতাজ বলেছিলেন, বিয়ের পর প্রীতম তাকে মা-বাবার মতোই যত্নে রেখেছেন এবং প্রীতমকে ছাড়া চলা তার পক্ষে কঠিন। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের এই আকস্মিক বিচ্ছেদের খবর ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে বড় এক ধাক্কা হিসেবে এসেছে।

কাদা ছোড়াছুড়িহীন এক পরিপক্ক বিদায় বর্তমান সময়ের চটকদার বিচ্ছেদের বিপরীতে প্রীতম ও শেহতাজের বিচ্ছেদবার্তায় কোনো ক্ষোভ, অভিযোগ কিংবা পাল্টাপাল্টি দোষারোপ ছিল না। বরং দুই তারকার পোস্টেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে গভীর পরিপক্কতা, পারস্পরিক সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও সৌহার্দ্যের ছাপ।

জীবনের এই নতুন ও সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে প্রীতম ও শেহতাজ—দুজনই বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমের প্রতি তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। পরিবর্তনশীল এই সময়ে নিজেদের মতো করে যেন তারা নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যেতে পারেন, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে সেই শুভকামনা ও সহযোগিতাই প্রত্যাশা করেছেন তারা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে