নবপ্রকাশ ডেস্ক:
দেশ জুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে এই রোগে দেশে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৫০০ জনে। গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১২ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ১৩২ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এটা সর্বোচ্চ সংখ্যা। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ১২ জন ও হাম আক্রান্ত হয়ে ১ জন মারা গেছে। হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি বরিশালে মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় চার, চট্টগ্রামে দুই, সিলেটে চার, বরিশালে এক ও ময়মনসিংহে এক শিশু মারা গেছে। এতে আরও বলা হয়, গত ১৫ই মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত এ নিয়ে সন্দেহজনক হাম রোগে মোট ৪২৬ জন ও নিশ্চিত হামে ৮৬ জন মারা গেছে। একই সময়ে সারা দেশে হাম সন্দেহে ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৫ হাজার ১১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ই মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর। এ ছাড়াও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৪৯৪ জন।
হাম রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার-নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল: হাম রোগীদের চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যেসব হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি আছে, সেসব হাসপাতালে ঈদের সময় চিকিৎসক ও নার্সরা দায়িত্বে থাকবেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে সার্কুলার জারি করা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও হাম রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ডাক্তার-নার্সের ছুটি থাকবে না।
ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা নেয়ার পরও শতভাগ নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে শিশু হাম থেকে পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে। ভাইরাস পরিস্থিতি ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে তিনি নিজেকে বিজ্ঞানী না হওয়ায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দিতে পারেন না। ঈদের সময় সতর্কতা নিয়ে তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের ভিড় বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, হাম খুবই সংক্রামক রোগ, যা শ্বাস-প্রশ্বাস ও সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। তিনি আরও সতর্ক করেন, ঈদের সময় বাস-ট্রেন যাত্রা এবং পারিবারিক মেলামেশার কারণে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
