ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » হামের প্রাদুর্ভাব ও স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে এবি পার্টির উদ্বেগ

হামের প্রাদুর্ভাব ও স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে এবি পার্টির উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং স্বাস্থ্যখাতের চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে এবি পার্টি। দলটি হামে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সর্বদলীয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি জরুরি ট্রান্সফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাজনৈতিক অপপ্রচার বন্ধ করে কার্যকর জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, “হামে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন মনে করে রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে। এ দায় থেকে আমরা কেউ মুক্ত নই।” তিনি অভিযোগ করেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দোষারোপ নয়, বরং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, জনস্বাস্থ্য বাস্তবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে হামের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সাম্প্রতিক সময়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যও সেই বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয় বলে উল্লেখ করা হয়। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, করোনাকালে শহরকেন্দ্রিক উচ্চবিত্ত ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমান হাম পরিস্থিতিতে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অপুষ্টি, ভিটামিন ঘাটতি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, হামের এই অস্বাভাবিক বিস্তার শুধুই স্বাভাবিক সংক্রমণ, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ রয়েছে। পরিকল্পিত ভাইরাস বিস্তার, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, কিংবা মাঠপর্যায়ের চিকিৎসা ও টিকাদান ব্যবস্থায় অদক্ষতা বা অনিচ্ছা—এসব বিষয়েও নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়।

 

এবি পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলন, তথ্য আপলোডে অনিয়ম এবং মাঠপর্যায়ে একাধিকবার টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে হামের টিকাদান কাভারেজ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সরকার ৯০ শতাংশের বেশি টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। দলটি আরও দাবি করে, সরকারি প্রদর্শিত “ক্রুড কাভারেজ” এবং পরবর্তীতে পরিচালিত “কাভারেজ ইভ্যালুয়েশন সার্ভে”-এর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। অতীতের অতিরঞ্জিত সরকারি তথ্যের কারণে বাস্তব পরিস্থিতি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হামের বিরুদ্ধে “হার্ড ইমিউনিটি” অর্জনের জন্য কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ কার্যকর টিকাকভারেজ প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সবসময়ই বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে উল্লেখ করে এবি পার্টি জানায়, টিকা গ্রহণের উপযুক্ত হওয়ার আগেই এসব শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। এর পেছনে মায়েদের পর্যাপ্ত ইমিউনিটি না থাকা, অপুষ্টি এবং সমাজে হার্ড ইমিউনিটির ঘাটতিকে দায়ী করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সরকারের উদ্যোগে বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ডোজ হামের টিকা মজুত রয়েছে এবং জরুরি “ক্যাচ-আপ” টিকাদান কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২০ এপ্রিল থেকে জাতীয় পর্যায়ে হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। এ সময় টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানানো হয়। বরং GAVI, UNICEF, World Health Organization, World Bank এবং Asian Development Bank-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমেই ইপিআই কর্মসূচির টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রেখে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি নিরাপত্তা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করারও দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, হাম প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো টিকাদান এবং জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মশিউর রহমান মিলু, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, বরিশাল জেলার এবি পার্টির নেতা জাকির হোসাইন ও মো. মহিবুল ইসলাম।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে