ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » হান্টাভাইরাস: এক নীরব ঘাতক, ২০২৬-এর ক্রুজ শিপ ট্র্যাজেডি ও বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি

হান্টাভাইরাস: এক নীরব ঘাতক, ২০২৬-এর ক্রুজ শিপ ট্র্যাজেডি ও বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্বে সংক্রামক রোগের তালিকায় নতুন আতঙ্ক হিসেবে জেঁকে বসেছে ‘হান্টাভাইরাস’ (Hantavirus)। যদিও এটি কোনো নতুন ভাইরাস নয়, কিন্তু ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় একটি প্রমোদতরীতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব বিশ্ববাসীকে আবারও এই ভাইরাসের প্রাণঘাতী রূপ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাস কেবল বিরলই নয়, এর মৃত্যুহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

২০২৬-এর সেই ভয়াবহ স্মৃতি: MV Hondius প্রাদুর্ভাব
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ডাচ এক্সপেডিশন জাহাজ MV Hondius আর্জেন্টিনা থেকে অ্যান্টার্কটিকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর এক মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার হয়। ১৩-১৫ এপ্রিল জাহাজটি দক্ষিণ আটলান্টিকের ‘ট্রিস্টান দা কুনহা’ অঞ্চলে অবস্থানকালে ইঁদুর বা রোডেন্ট-এর সংস্পর্শে আসে বলে ধারণা করা হয়।

 

যাত্রা চলাকালীন একজন ডাচ নাগরিক প্রথম শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে আরও দুজন যাত্রী প্রাণ হারান। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরীক্ষায় সেখানে Andes strain হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়, যা সীমিত পরিসরে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম। এই ঘটনায় কেপ ভার্দে ও ক্যানারি আইল্যান্ড জাহাজটিকে ভিড়তে না দেওয়ায় কয়েক দিন যাত্রীরা সমুদ্রে অবরুদ্ধ অবস্থায় কাটান। এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে পুনরায় ‘কোভিড-সদৃশ’ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল।
হান্টাভাইরাস কী ও কীভাবে ছড়ায়?

 

এটি মূলত একটি RNA ভাইরাস। এর প্রধান বাহক হলো বিভিন্ন প্রজাতির বুনো ইঁদুর (যেমন: Deer mouse, Cotton rat)। এই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে মূলত চারভাবে প্রবেশ করতে পারে:
* অ্যারোসল সংক্রমণ: ইঁদুরের শুকিয়ে যাওয়া মল বা প্রস্রাবের ধূলিকণা নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করলে।
* সরাসরি সংস্পর্শ: ভাইরাসে দূষিত কোনো বস্তু বা ইঁদুরের বাসস্থানে হাত দিলে।
* খাদ্য সংক্রমণ: ইঁদুরের মল-মূত্র মিশ্রিত খাবার বা পানি গ্রহণ করলে।
* ইঁদুরের কামড়: যদিও এটি অত্যন্ত বিরল।

লক্ষণ ও শারীরিক প্রভাব
সংক্রমণের শুরুর দিকে সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও দ্রুতই তা মারাত্মক রূপ নেয়।
1. প্রাথমিক লক্ষণ: তীব্র জ্বর, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং বমি ভাব।
2. জটিল পর্যায়: ফুসফুসে দ্রুত পানি জমা (Pulmonary Edema), রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্ট। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি কিডনি বিকল এবং মাল্টি-অর্গান ফেইলিউরের কারণ হতে পারে।
সতর্কতা: পরিষ্কারের ভুল পদ্ধতি হতে পারে মৃত্যুর কারণ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ইঁদুর আক্রান্ত স্থান শুকনো অবস্থায় ঝাড়ু দেওয়া বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করা সবচেয়ে বিপজ্জনক। এতে ভাইরাসটি বাতাসে ভেসে অ্যারোসল তৈরি করে, যা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে সরাসরি ফুসফুসে ঢুকে পড়ে।

 

প্রতিকার ও পরিষ্কারের নিরাপদ কৌশল
যেহেতু হান্টাভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নেই, তাই পরিচ্ছন্নতাই এর প্রধান ঢাল। CDC-এর পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদ পরিষ্কার পদ্ধতি হলো:
* বায়ু চলাচল: পরিষ্কারের আগে জানলা-দরজা অন্তত ৩০ মিনিট খুলে রাখা।
* জীবাণুনাশক ব্যবহার: ইঁদুরের বর্জ্যের ওপর সরাসরি ব্লিচ সলিউশন বা জীবাণুনাশক স্প্রে করা এবং ৫ মিনিট অপেক্ষা করা।
* সুরক্ষা সরঞ্জাম: গ্লাভস এবং উন্নত মানের মাস্ক পরিধান করা।
* বর্জ্য অপসারণ: ভিজে টিস্যু বা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে তা সিল করা ব্যাগে ডাস্টবিনে ফেলা।

 

ঝুঁকিতে কারা?
মূলত যারা কৃষিকাজ করেন, শস্যের গুদামে কাজ করেন, কিংবা জঙ্গলে ক্যাম্পিং ও পরিত্যক্ত পুরোনো কেবিনে পর্যটন করতে যান, তারা এই ভাইরাসের সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।
২০২৬ সালের জাহাজ প্রাদুর্ভাব আমাদের শিখিয়েছে যে, বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা কতটা জরুরি। সচেতনতাই পারে এই নীরব ঘাতক থেকে আমাদের রক্ষা করতে।
তথ্যসূত্র:বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও সিডিসি (CDC) নির্দেশিকা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে