ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলা: ২৪ ঘণ্টায় ডুবল ২ বাণিজ্যিক জাহাজ

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলা: ২৪ ঘণ্টায় ডুবল ২ বাণিজ্যিক জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব বাণিজ্যের জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সাগরে ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটির মধ্যে একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অন্যটি ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগা ও বারবুডার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘কেপ দাউ’। সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ এবং জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) নিশ্চিত করেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল ও বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) জানায়, বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর ছোট আকারের কন্টেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ ডুবে যায়। হামলার সময় জাহাজটিতে থাকা ২১ জন নাবিকের সবাই অক্ষত অবস্থায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এবং তাঁদের সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের আইএমও জানিয়েছে, বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ ‘কেপ দাউ’ গত ২৩ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ড্রোন/ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়ে অচল হয়ে সাগরে ভাসছিল। ওই সময় হামলায় একজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং বাকি নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অচল অবস্থায় ভাসতে থাকা সেই ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিও বুধবার শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যায়।

চলমান যুদ্ধে তৃতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবি

জাতিসংঘের আইএমও-এর আনুষ্ঠানিক তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের অব্যাহত হামলায় হরমুজ প্রণালিতে এ পর্যন্ত মোট ৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ সলিলসমাধি লাভ করল। গত মার্চে মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘সাফিন প্রেস্টিজ’ ইরানি হামলায় ডুবে যাওয়া প্রথম জাহাজ ছিল। এরপর ‘জিএফএস প্রাইড’ ও ‘কেপ দাউ’ যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ হিসেবে নিমজ্জিত হলো। এ ছাড়া গত এপ্রিলে ‘এমএসসি ফ্রান্সিসকা’ নামের অপর একটি কন্টেইনার জাহাজও জব্দ করে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এমপিএ এক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, “হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর অব্যাহত হামলায় আমরা চরমভাবে উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা শুধু উসকানিমূলকই নয়, বরং সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মারিস্কস’ সতর্ক করে জানিয়েছে, সংঘাত কেবল জ্বালানিবাহী তেল ট্যাঙ্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; কন্টেইনারবাহী এবং পণ্যবাহী বাল্ক ক্যারিয়ারগুলোও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

কূটনৈতিক চাপ ও জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল

গত ১০ দিনে কৌশলগত এই প্রণালিতে হামলার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরে মার্কিন অবরোধ এবং সম্প্রতি আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার পাল্টাজবাব হিসেবেই তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ইরানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য ও তেল পরিবহন ব্যাহত করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রাখা এবং আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাই তেহরানের নতুন রণকৌশল। বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান ধমনী এই হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক জাহাজ ডুবির ঘটনায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে