ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » স্কুলের মালামাল চুরি, বন্ধ হলো ক্লাস

স্কুলের মালামাল চুরি, বন্ধ হলো ক্লাস

ফেনী পাইলট আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে ক্লাস। রোববার (২১ জুন) বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
তিনটি শ্রেণিকক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ ও সার্কিট ব্রেকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ চারটি শ্রেণির পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ।
বিদ্যালয়ের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চুরি হওয়ায় ৩টি রুমের বৈদ্যুতিক তার, সুইচ ও সার্কিট ব্রেকারের কাজ চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় বাচ্চাদের নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় শিশু, প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সূচি স্কুল পেইজে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের কলাপসিবল গেটের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরে ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার তিনটি শ্রেণিকক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সকেট, সার্কিট ব্রেকার, বৈদ্যুতিক মিটার, পানির মোটর ও কপার তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারাহ্ দিবা খানম বলেন, চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি শ্রেণির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপনের পর আশা করি মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে শ্রেণিগুলোর পাঠদান পুনরায় শুরু করা যাবে।
বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে আসার পর ফটকে ক্লাস স্থগিতের নোটিশ সাঁটিয়ে রাখতে দেখেছি। এমন ঘটনা ছোট ছোট শিশুদের মাঝে মানসিকভাবেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি জেলার সবচেয়ে বড় প্রাথমিক বিদ্যালয়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এখান থেকে কয়েকশ গজ দূরেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর। কিন্তু এ ঘটনার দুইদিন পার হলেও উপজেলা বা জেলার কোনো কর্মকর্তা এখানে আসেননি।
ফেনী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভীন বলেন, চুরির ঘটনা জানার পর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে থানায় জিডি করতে বলা হয়েছিল। দাপ্তরিক কাজের ব্যস্ততায় আমার যাওয়া সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ চলছে বলে শুনেছি। সেজন্য কয়েকটি শ্রেণির ক্লাস বন্ধ ছিল।
এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেনী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, এরই মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এর বাইরে তেমন অগ্রগতি নেই।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃষীকেশ শীল বলেন, চুরির বিষয়টি এমনিতে অবগত হলেও অফিসিয়ালি আমাকে জানানো হয়নি।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য চুরির বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে