আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মূল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’-এ ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সৌদি আরবে যা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ট্রাম্প জানান, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি খুব দ্রুতই সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন। সৌদি আরবের হুতিবিরোধী সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমর্থন বৃদ্ধি করা হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন।
এদিকে, সৌদিতে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “সৌদি আরবে সাম্প্রতিক এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি হুতিদের এই চরম অবজ্ঞা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।” রুবিও রিয়াদ বিমানবন্দরে এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সৌদি জোটের ক্রমাগত বিমান হামলা এবং সাধারণ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের পাল্টা জবাবেই রিয়াদ বিমানবন্দরে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ এক বিবৃতিতে রিয়াদের বেসামরিক বিমানবন্দরে এই হামলার চরম নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। এটি এই অঞ্চলের সহিংসতার চক্রকে দীর্ঘায়িত করবে এবং ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টাকে চরম জটিলতার মুখে ঠেলে দেবে।”
হামলার পর নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সাময়িকভাবে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের বিমান ওঠা-নামা ও উড্ডয়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (GACA)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
