ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » সৌদিকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ মার্কিন অস্ত্র ব্যবস্থা

সৌদিকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ মার্কিন অস্ত্র ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রতিরক্ষা খাতে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সর্বাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম থাকার পরেও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরোপুরি ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব। সম্প্রতি দেশটির রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর এই নিরাপত্তা সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (SIPRI) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সৌদি আরব প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা বিশ্বের শীর্ষ সামরিক ব্যয়বহুল দেশের তালিকার প্রথম সারিতে রয়েছে। দেশটির আকাশ সুরক্ষায় মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা, উন্নত যুদ্ধবিমান এবং ব্রিটিশ ও ফরাসি অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন রয়েছে। তবে ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং একাধিক দিক থেকে আসা হুমকির কারণে এই বিপুল সামরিক শক্তি নিয়েও পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিন দিক থেকে হামলার বহুমুখী ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের নিরাপত্তায় মূলত তিনটি ভিন্ন দিক থেকে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে—

১. পূর্ব দিক: ইরান।

২. দক্ষিণ দিক: ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী।

৩. উত্তর দিক: ইরাকের ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী।

চলতি বছর সংঘাতের তীব্রতম সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। পাশাপাশি, ইরাকি গোষ্ঠীগুলো পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আর দক্ষিণে ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকা ও ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণব্যবস্থা ব্যবহার করে হুথিরা নিয়মিত সৌদি ভূখণ্ডে আঘাত হানছে।

কৌশল বদলেছে হুতিরা

সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চরম চাপে ফেলতে হুতিরা এখন ইউক্রেন যুদ্ধের আদলে একসঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করছে। নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রাডারে শনাক্ত করা দুরূহ। এছাড়া হুতিদের হাতে থাকা উন্নত ‘হাতেম-২’ ও ‘প্যালেন্টাইন-২’ এর মতো নিখুঁত ও দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নকশার সঙ্গে ইরানের তৈরি অস্ত্রের গভীর মিল রয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতে, বাইরের উৎস থেকে হুথিদের কাছে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং প্রশিক্ষণ পৌঁছানোর ব্যাপ্তি এখন নজিরবিহীন।

কূটনীতি নাকি কঠোর সামরিক পদক্ষেপ—দ্বিধায় রিয়াদ

বিমানবন্দরে রক্তক্ষয়ী হামলায় এক ডজনের বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর পর হুতিদের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া সৌদি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে পাল্টা বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে হুতিদের সম্পূর্ণ দমন করাও সহজ নয়। তাছাড়া, সামনেই রিয়াদে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মেগা বিনিয়োগ সম্মেলন (‘মরুভূমির দাভোস’) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও দেশটির অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়নের পরিকল্পনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সৌদি আরব এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জোটের সহায়তা প্রত্যাশা করছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষায় কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে এবং মিসরও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের ঘাটতি এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত সতর্ক অবস্থানের কারণে রিয়াদকে শেষ পর্যন্ত কঠিন কূটনৈতিক সমঝোতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক ভারসাম্যের পথেই হাঁটতে হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে