বিনোদন ডেস্ক:
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এর দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাং। একই সঙ্গে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য তারকাদেরও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্টের সত্যতা এখনো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখছে মুম্বাই পুলিশ।
অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধুর নামে দায় স্বীকার
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের অভিজাত জুহু এলাকায় বলিউড তারকা টাইগার শ্রফের বাসভবন ও চলাচলের পথ লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এর পরপরই অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু নামের দুই ব্যক্তি নিজেদের লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দেন।
ওই পোস্টে দাবি করা হয়, হামলার আগে টাইগার শ্রফকে ফোনে সতর্ক করা হলেও তিনি তা পাত্তা দেননি। আর সে কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি বলিউডের অন্যান্য নির্মাতাঁ ও কলাকুশলীদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “যারা আমাদের কথা অমান্য করে সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাদের পরিণতিও টাইগার শ্রফের মতোই হবে এবং তাদের মরতে হবে।” এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলোকে নিয়েও অবমাননাকর ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয় ওই পোস্টে।
১২টি বিশেষ দলের তদন্ত ও ৩ জন গ্রেপ্তার
ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে মুম্বাই পুলিশ। টাইগার শ্রফের ওপর হামলার পেছনের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে অপরাধ দমন শাখা ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে ১২টি বিশেষ দল মাঠে নামানো হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সালমান খান ও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা চলছে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে এই হরিণ অত্যন্ত পবিত্র হওয়ায় ২০১৮ সালে সালমানকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয় লরেন্স।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে সালমানের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকিকে হত্যা এবং বান্দ্রায় অভিনেতার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে গুলি চালানোর মতো একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনায় এই বিরোধ তীব্র রূপ নেয়। কারাগারে বন্দী থেকেই লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেটওয়ার্ক বলিউড পাড়ায় নিয়মিত আতঙ্ক ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক টাইগার শ্রফের ওপর হামলা সেই পুরোনো শত্রুতা ও বলয়েরই বিস্তার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
