নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার, পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আগামী ১২ জুনের পর শাহবাগ দখল কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর সমাধিস্থল সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় শতাধিক নেতাকর্মী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, “হাদী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি জাতির বিবেককে নাড়া দেওয়া একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতেও দেশের বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। একই ধরনের পরিস্থিতি যেন হাদী হত্যার ক্ষেত্রেও সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত ছিল, দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না—সেসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। একইসঙ্গে পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত কয়েক মাসে আমরা একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মরণসভা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা সরকারকে সাত দিনের সময় দিচ্ছি।”
ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী ১২ জুনের মধ্যে সরকার যদি আমাদের দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে ১২ জুনের পর আমরা শাহবাগ দখল কর্মসূচি ঘোষণা করবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। তারা দাবি করেন, যেকোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে হাদী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
