ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » সম্পত্তির আইন ও জামায়াতের সমালোচনা: পাল্টা যুক্তি চিফ হুইপের

সম্পত্তির আইন ও জামায়াতের সমালোচনা: পাল্টা যুক্তি চিফ হুইপের

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

মা-বাবার সম্পত্তির অধিকার ও ভরণপোষণ নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া নতুন আইনের উদ্যোগকে যারা শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে বিরোধিতা করছেন, তাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।

মা-বাবার সুরক্ষা ও শরিয়া আইনের প্রসঙ্গ

চিফ হুইপ বলেন, ইসলাম ধর্মে মা-বাবাকে সম্মান ও সুরক্ষার কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বলা হলেও একটি জনকল্যাণমূলক আইনের বিরোধিতা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকারের পক্ষ থেকে ‘শরিয়া আইন চালু হবে’ এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। দেশে চুরির মতো অপরাধে শরিয়া আইনের প্রয়োগ না থাকার উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রচলিত আইনের অধীনে থেকে কেন শরিয়ার দোহাই দিয়ে এই আইনের বিরোধিতা করা হচ্ছে? দেশের অনেক বৃদ্ধ মা-বাবা শেষ বয়সে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে থাকছেন বা অবহেলার শিকার হচ্ছেন—তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই আইনের একমাত্র উদ্দেশ্য।

বিদ্যুৎ, সার সংকট ও সরকারের উদ্যোগ

বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, লংমার্চ করে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান হয় না; একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে অন্তত আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের অপ্রয়োজনীয় ক্যাপাসিটি চার্জ এবং প্রায় চার হাজার সার ডিলারের অনিয়মের কারণেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১৬ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে এবং কৃষক, ফ্যামিলি ও হেলথ কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করার কাজ চলছে।

অর্থনৈতিক জবাবদিহি ও সরকারি ব্যয় সংকোচন

বিগত সরকারের বিপুল ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারকে টানতে হচ্ছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ জানান, জনগণের করের টাকার অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। মন্ত্রী-এমপিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে সরকারি ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

পররাষ্ট্রনীতি ও ব্রিকস সম্মেলন

‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিতে সরকার সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়। ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশকে ব্রিকসের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। সরকার সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রত্যাশা করে এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

জুলাই সনদ, সংবিধান সংশোধন ও সংসদীয় কমিটি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব বাড়েনি; বরং আইন, অর্থ, বাণিজ্যসহ ৩৯টি স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বিরোধী দলের ৩ জন করে সদস্য রেখে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি, দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আগের সরকারের আমলে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে