ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » শেখ হাসিনার দেশে ফেরা: রাজনৈতিক কৌশল নাকি বড় ধরনের ঝুঁকি?

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা: রাজনৈতিক কৌশল নাকি বড় ধরনের ঝুঁকি?

বিশেষ প্রতিবেদক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আসা বক্তব্য ঘিরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যেমন নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ। এটি কি তৃণমূলকে চাঙা করার কোনো বাস্তব প্রস্তুতি নাকি স্রেফ রাজনৈতিক কৌশল—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকেরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফেরা বা না ফেরার ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং বড় ধরনের ঝুঁকি। তাঁদের মতে, ঘোষিত সময়সীমা বা ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে না পারলে ১ জানুয়ারি থেকেই তাঁর নেতৃত্ব বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তাঁর পরবর্তী যেকোনো ঘোষণা বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে পারে। অন্যদিকে, সরকারের অবস্থান যেখানে স্পষ্ট এবং বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার বিষয়ে অনড়, সেখানে কোনো আইনি জটিলতা বা অজুহাত দাঁড় করানো কঠিন হবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনাকে ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম। তিনি জানান, এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে চাঙা রাখা।

অধ্যাপক আইনুল ইসলাম আরও বলেন, “শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে জটিল আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান বয়স ও সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি সেই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। ফলে এটি একটি রাজনৈতিক স্লোগান ছাড়া আর কিছুই নয়।” তিনি মনে করেন, নির্ধারিত সময়ে দেশে না ফিরলে ট্রাভেল পাস বা বিমান অবতরণের অনুমতি না পাওয়ার মতো অজুহাত সামনে আনা হতে পারে, তবে তা রাজনৈতিক অবস্থানের যে ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণ করতে পারবে না।

রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত এবং তাঁদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন আলামত নেই। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হবে এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে সাময়িক চাঙাভাব দেখা দিতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর মামলার রায় ও সাজা বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে জটিল রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।”

বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে একটি মামলায় ইতোমধ্যে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। উপরন্তু, শেখ হাসিনার বিচারের প্রশ্নে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের সমস্ত শক্তি ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কঠোর ঐক্য বিদ্যমান। ফলে ফিরতে হলে তাঁকে চতুর্মুখী রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

বিষয়টিকে নৈতিক অবস্থান থেকে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে বিপুল প্রাণহানি হয়েছে, তার জন্য শেখ হাসিনার প্রথম কাজ ছিল জনগণের কাছে অনুশোচনা প্রকাশ করা। কিন্তু তাঁর কথায় এখনো বলপ্রয়োগের মানসিকতা দেখা যায়। এই অবস্থায় দেশে ফিরে দল সংগঠিত করার চিন্তা অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তরাধিকার সূত্রে শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে, সে প্রসঙ্গে আলাল যোগ করেন, “শেখ সেলিমের যদি সেই রাজনৈতিক সাহস থাকে, তবে তিনি দেশে ফিরে দল পরিচালনা করুন, তাঁকে তো কেউ বাধা দিচ্ছে না।”

সব মিলিয়ে, আইনি নিষেধাজ্ঞা, আদালতের সাজা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মুখে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার এই বার্তা রাজনৈতিক কৌশল নাকি কোনো নতুন সংকটের সূচনা—তা এখন দেখার বিষয়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে