স্পোর্টস ডেস্ক: একদিকে শিরোপা জয়ের উল্লাস, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক—দুই বিপরীত অনুভূতির মধ্য দিয়েই স্মরণীয় এক রাত পার করল বার্সেলোনা। লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করার ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারানোর পর আনন্দে মাতলেও, ড্রেসিংরুমে ছিল আবেগঘন এক ভিন্ন পরিবেশ। কারণ ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের বাবাকে হারিয়েছিলেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ফ্লিক জানান, রোববার সকালে তাঁর মা ফোন করে বাবার মৃত্যুসংবাদ দেন। এমন কঠিন মুহূর্তে খেলোয়াড়দের বিষয়টি জানানো উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। পরে দলকে নিজের পরিবারের অংশ মনে করেই খবরটি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।

ফ্লিক বলেন,
“আমি আপনাদের একটি গল্প বলতে চাই। এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি অত্যন্ত গম্ভীর। আজ সকালে মা ফোন করে জানালেন বাবা আর নেই। আমি ভাবছিলাম দলকে বলব কি না। কিন্তু তারা আমার পরিবারের মতো, তাই শেষ পর্যন্ত আমি তাদের জানাই।”
এই খবর শোনার পর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের আচরণে গভীরভাবে স্পর্শিত হন এই জার্মান কোচ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“খবরটি শোনার পর তারা যা করেছে, তা আমি কোনোদিন ভুলব না। এটি ছিল অবিশ্বাস্য। আমি প্রত্যেকের জন্য গর্বিত। ক্লাবের প্রতিটি সদস্য আজ প্রমাণ করেছে যে আমরা একটি সত্যিকারের পরিবার।”
যদিও খেলোয়াড়রা ঠিক কী করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ফ্লিক; তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ম্যাচ শেষে ট্রফি উদযাপনের চেয়ে কোচকে ঘিরে সান্ত্বনা দিতেই বেশি সময় কাটান ফুটবলাররা। ড্রেসিংরুমে অনেক খেলোয়াড়কে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা গেছে বলেও জানা যায়।

এদিকে মাঠের লড়াইয়েও ছিল বার্সার পূর্ণ আধিপত্য। শিরোপা নিশ্চিত করতে ড্রই যথেষ্ট ছিল কাতালানদের জন্য। কিন্তু ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে দাপটের সঙ্গেই লা লিগা জয়ের উৎসব শুরু করে তারা। এই জয়ের মাধ্যমে ক্লাব ইতিহাসে ২৯তম লা লিগা শিরোপা ঘরে তুলল বার্সা। পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্পেনের সেরা হওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করল কাতালান জায়ান্টরা।
বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন হান্সি ফ্লিক নিজেও। বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই সফল কোচ দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মৌসুমেই বার্সাকে লিগ শিরোপা এনে দিয়েছেন। তাও আবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে হারিয়ে।
ফুটবল ইতিহাসে শিরোপা জয়ের রাত সাধারণত আনন্দ আর উদযাপনের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে। কিন্তু এবার বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে শিরোপার আনন্দের সঙ্গে মিশে ছিল একজন সন্তানের ব্যক্তিগত শোক, সতীর্থদের মানবিকতা এবং একটি দলের পরিবার হয়ে ওঠার অনন্য গল্প।
