আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নজিরবিহীন আন্দোলন, নৈরাজ্য ও সহিংসতার পেছনের মূল কারণ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, অবিলম্বে কঠোর সীমান্ত নীতি গ্রহণ না করলে খুব শিগগিরই ফরাসি রাজধানী প্যারিস একটি ‘মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরে’ পরিণত হবে।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফরাসি পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
‘সীমান্ত বন্ধ করে দিন’: ইমানুয়েল মাখোঁকে ট্রাম্পের পরামর্শ
ফ্রান্সের চলমান সহিংসতার সঙ্গে অভিবাসনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “প্যারিস ও ফ্রান্সে আজ যা ঘটছে, তা মূলত অভিবাসন নীতি ও দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থার ফল। আমি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি—আপনারা অবিলম্বে নিজেদের সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন।”
ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিজের আগের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি বহু আগেই মাখোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে বিশ্বজুড়ে অবাধে মানুষকে ফ্রান্সে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে একটি বড় ঐতিহাসিক ভুল করা হচ্ছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “আপনারা পৃথিবীর সবাইকে ফ্রান্সে ঢোকার ছাড়পত্র দিচ্ছেন। মনে হচ্ছে যেন পুরো পৃথিবীই আপনাদের দেশে ঢুকে পড়ছে।”
ইউরোপের জন্য চরম সতর্কবার্তা
ইউরোপের সার্বিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইউরোপীয় দেশগুলো যদি অনতিবিলম্বে তাদের সীমান্ত বন্ধ না করে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দেশ থেকে বিতাড়িত না করে, তবে পুরো ইউরোপ মহাদেশের চরম সর্বনাশ ঘটে যাবে।”
প্রেক্ষাপট ও সমালোচনা
উল্লেখ্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সরকারের নীতিমালার প্রতিবাদে প্যারিসসহ ফ্রান্সের প্রধান শহরগুলোতে সম্প্রতি লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। সপ্তাহান্তে যা পরবর্তীতে ঐতিহাসিক ভবনে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও সহিংসতায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ফ্রান্সের বেশ কিছু শহরে সান্ধ্যকালীন কারফিউ ও বিশেষ জরুরি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
ফরাসি সহিংসতাকে নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনাও উঠেছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা বজায় রাখতে ও ডানপন্থী সমর্থকদের চাঙ্গা করতেই ট্রাম্প যেকোনো বৈশ্বিক সংকট বা আন্দোলনকে ঢালাওভাবে অভিবাসন ও বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছেন।
