ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » শিক্ষার্থী ভিসায় কাজের অনুমতি: ৭০ হাজার ডলার ফি চান ট্রাম্প

শিক্ষার্থী ভিসায় কাজের অনুমতি: ৭০ হাজার ডলার ফি চান ট্রাম্প

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ও উচ্চশিক্ষা শেষে কাজের সুযোগ নিতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ (ওপিটি) বা হাতে-কলমে কর্ম-প্রশিক্ষণ ফি একলাফে ৭০ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করার নজিরবিহীন প্রস্তাব করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সরকারি গেজেট ও বিজ্ঞপ্তিতে এই বিতর্কিত প্রস্তাবনার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। অ-অভিবাসী ও বিদেশি ভিসাধারীদের ওপর বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক কঠোর নীতিমালার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্তাবিত নতুন নীতি অনুযায়ী, এফ-১ (F-1) ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্নাতক বা ডিগ্রি অর্জনের পর কিংবা শিক্ষা চলাকালীন নিবন্ধিত ও অনুমোদিত কোনো সংস্থায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের (OPT) সুযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত বা বিশেষায়িত কোনো কর্ম-প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হলে তাদের অতিরিক্ত আরও ৩০ হাজার ডলার গুনতে হবে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাদের যুক্তিতে জানিয়েছে, ভিসা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জালিয়াতি ঠেকানো, অভিবাসন কাঠামোর স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা জোরদার করা এবং আমেরিকার স্থানীয় কর্মীদের কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা সুসংহত করতেই বিপুল অঙ্কের এই নতুন ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে ওপিটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫০০ ডলার ফি দিতে হয়। নতুন প্রস্তাব পাস হলে তা পূর্বের ফি-এর তুলনায় প্রায় ১৪০ গুণ বৃদ্ধি পাবে। সাধারণত এই ওপিটি সুবিধাকে কাজে লাগিয়েই বিদেশি তরুণ প্রকৌশলী ও গবেষকেরা পরবর্তীতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘এইচ-১বি’ (H-1B) কাজের ভিসায় রূপান্তরিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সুযোগ পান। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) খাতের তরুণ স্নাতকদের জন্য এই নিয়ম মারাত্মক বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

যদিও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকালীন প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষ করা বিদেশি মেধাবীদের দেশটিতে রাখা সহজ করা হবে এবং প্রয়োজনে গ্রিন কার্ড দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে—তবে বাস্তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর আর্থিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।

ইতোমধ্যেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই প্রস্তাব আইনি চ্যালেঞ্জ ও পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও পেশাজীবীদের সংগঠন ‘ট্যালেন্ট মোবিলিটি ফান্ড’-এর পরিচালক ডগ র‍্যান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, “এর আগে ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফির মতো একাধিক বিতর্কিত পদক্ষেপ যেভাবে আদালতের রায়ে স্থগিত হয়েছিল, প্রস্তাবিত এই অতিরিক্ত ফি-র নিয়মটিও আইনি বিচারে টেকসই হবে না।”

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, নীতিটি চূড়ান্ত করার পূর্বে আগামী ৩০ দিন জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য আরও ৬০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে