ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ল্যাপটপ পাচ্ছে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী

ল্যাপটপ পাচ্ছে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পৌঁছে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ‘গোল্ডেন জিপিএ-৫’ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১ম বৈঠকে উত্থাপিত কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত বাজেট, শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ এবং শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে ‘একগুচ্ছ’ যুগান্তকারী সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।

ল্যাপটপ প্রদান ও শিক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেট

কমিটির কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২.৭ শতাংশ বেশি।

শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতায় এগিয়ে নিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ট্যাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রীর মিডিয়া সেল থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ল্যাপটপ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়।

এছাড়া, ইএফটি (EFT) ও আইবাস পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফল এই সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের জন্য স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে ধন্যবাদ জানানো হয়।

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশ

কেবল পাস কিংবা জিপিএ-৫ অর্জনের কৃত্রিম সূচককে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি না ধরে শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিতে সংসদীয় কমিটি ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে:

  1. আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মূল্যায়ন: আন্তর্জাতিক মান অর্জনে বছরভিত্তিক, তিন মাস বা ছয় মাস অন্তর শিক্ষাক্রমের শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা।

  2. দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ ও পরিদর্শন: শিক্ষা বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গণ গড়তে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে সরাসরি স্কুল-কলেজ পরিদর্শন।

  3. জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: সংসদীয় কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা বোর্ড ও অধীনস্থ দপ্তর প্রধানদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা।

  4. বিশেষ অগ্রাধিকার তালিকায় বকেয়া পরিশোধ: হজযাত্রী এবং দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া দ্রুত মেটাতে আলাদা অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করা।

  5. দ্রুত ভাতা প্রদান: বাজেটের সাপেক্ষে অন্যান্য বকেয়া ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।

  6. গবেষণা কার্যক্রম: মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা করা।

  7. শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষা: শিক্ষকদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটানো।

দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা-ভাবনা ও জাতীয় রোডম্যাপ

বৈঠকে সংসদীয় কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, “গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সূচকে আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশ্বমানের পরিমাপ পদ্ধতি প্রবর্তন জরুরি।”

একই সাথে মালয়েশিয়ান মডেলের আদলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়—যাতে সরকার বা মন্ত্রী পরিবর্তন হলেও মূল পাঠ্যক্রমের কাঠামো বারবার পরিবর্তিত না হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া জানান, “শিক্ষার গুণগত রূপান্তরে আন্তর্জাতিক মানের শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতির বিকল্প নেই। দ্রুতই শিক্ষার সার্বিক রোডম্যাপ নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে, যেখানে যাবতীয় কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।”

দেশের শিক্ষাবিদরা সংসদীয় কমিটির এই উদ্যোগ ও সময়োপযোগী সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, কৃত্রিম জিপিএ-নির্ভরতা থেকে বের হয়ে বিশ্বমানের পাঠ্যক্রম গ্রহণ দেশের শিক্ষা খাতে ইতিবাচক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে