বিশ্বকাপটা জিতেছেন, গোল্ডেন বলও জিতেছেন। কিন্তু লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এখনো একটি জায়গা ফাঁকা—বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট।
সেই আক্ষেপ ঘোচানোর শেষ সুযোগ আজ। তবে কাজটা সহজ নয়, ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জই বলা যায়। কারণ, কিলিয়ান এমবাপ্পে।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন এমবাপ্পে। এবারের আসরে ফরাসি ফরোয়ার্ডের গোলসংখ্যা ১০। আর মেসির ঝুলিতে এখন ৮ গোল।
আজ স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মেসিকে দুটি গোল করলেও হবে না। কারণ, গোলসংখ্যা সমান হলেও এগিয়ে থাকবেন এমবাপ্পে। দুজনেরই অ্যাসিস্ট ৪টি করে।
সে ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসবে মাঠে খেলা মিনিট, যেখানে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কথা এমবাপ্পের। ফরাসি তারকা খেলেছেন ৭৬৯ মিনিট, মেসি ৭১২ মিনিট। ফাইনালে ৫৮ মিনিট মাঠে থাকলেও মেসির মাঠে কাটানো সময় বেশি হয়ে যাবে। গোল্ডেন বুটে বিবেচনায় নেওয়া হবে, কে কম মিনিট খেলেছেন।
মোটের ওপর গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে মূলত দুটি পথ—
১. স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা। তখন এমবাপ্পের ১০ ছাড়িয়ে মেসির গোল হবে ১১টি।
২. দুটি গোলের সঙ্গে অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করা। সে ক্ষেত্রে তাঁর গোল হবে ১০, অ্যাসিস্ট হবে ৫। অ্যাসিস্টের সৌজন্যে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাবেন মেসি।
তবে বাস্তবতা বলছে, সবচেয়ে সম্ভাব্য সমীকরণটি হ্যাটট্রিকই। সেটি হলে ইতিহাসও নতুন করে লিখবেন মেসি। কারণ, বিশ্বকাপ ফাইনালে এখন পর্যন্ত হ্যাটট্রিক হয়েছে মাত্র দুটি—১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এবারের আসরেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পেয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এখন প্রশ্ন, শুরুতে যা করেছিলেন, শেষেও কি তার পুনরাবৃত্তি করতে পারবেন?
পার্থক্য অবশ্য বিশাল। সেদিন প্রতিপক্ষ ছিল আলজেরিয়া, আজ ইউরোপ সেরা দল স্পেন।
তবু মেসির ক্যারিয়ারই তো অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্পে ভরা। অনেক কিছুই পারেন তিনি। এটাও কি পারবেন?
উত্তর মিলবে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু ফাইনালে।
