২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর আগে দলবদলের বাজারে অঢেল অর্থ ঢেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে মাঠের খেলায় এই বিনিয়োগের সুফল তো দূরে থাক, উল্টো ধুঁকতে হচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। নতুন কোচ হোসে মরিনহোও এখনো ভিনিসিউস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপেদের খেলায় দেখার মতো পরিবর্তন আনতে পারেননি। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে এবার এক বিব্রতকর পরিসংখ্যান দেখতে হলো রিয়াল মাদ্রিদকে।
২০২৬-২৭ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৭টি ম্যাচ শেষ হয়েছে লা লিগায়। আর এই ক’টি ম্যাচে সবচেয়ে কম পথ দৌড়ানো দলটির নাম রিয়াল মাদ্রিদ। টেবিলের একেবারে তলানিতে—অর্থাৎ ২০ নম্বর দলের মধ্যে বিশ নম্বর! সোফাস্কোরের উপাত্ত বলছে, ম্যাচপ্রতি মাদ্রিদের দৌড় মাত্র ৮৩.৪৬ কিলোমিটার। পুরো লিগে এর চেয়ে কম আর কেউই দৌড়ায় না।
তালিকার ওপরের দিকে তাকালে ব্যাপারটা রিয়ালের গায়ে জ্বালা ধরানোর মতোই। যেখানে পুরো লিগের গড় দৌড় ৯৩.৩৭ কিলোমিটার, সেখানে ১০৫.৬১ কিলোমিটার দৌড়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে এলচে। আর ঠিক তাদের পেছনেই ১০৪.৬৪ কিলোমিটার নিয়ে আছে বার্সেলোনা। অর্থাৎ, রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ম্যাচপ্রতি পাক্কা ২১.১৮ কিলোমিটার বেশি দৌড়াচ্ছে ব্লাউগ্রানারা! এই ব্যবধানটাকে আর যা-ই হোক, মোটেও ছোটখাটো দেখার সুযোগ নেই।
ব্যাপারটা আরও পরিষ্কারভাবে বোঝার একটি দারুণ উপায় আছে। পুরো দলের দৌড়ের মোট দূরত্বকে যদি মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে তাত্ত্বিকভাবে বার্সেলোনার প্রতিটি পজিশনের খেলোয়াড় দৌড়ান ৯.৫১ কিলোমিটার। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রে এই হিসাবটা দাঁড়ায় মাত্র ৭.৫৯ কিলোমিটার! অর্থাৎ, বার্সার ১১ জন খেলোয়াড় মিলে যতটা পথ কাভার করেন, লস ব্লাঙ্কোসদের সেই একই দূরত্ব পার করতে লাগবে ১৩.৮ জন খেলোয়াড়!
গোলমেলে হিসাব বাদ দিয়ে বললে—এগারো জনের বিরুদ্ধে প্রায় চৌদ্দ জন! আর না, বাকি তিনজন কিন্তু বাঁশি হাতে রেফারি আর পতাকা হাতে তাঁর দুই সহকারী নন! এটা শুধুই একটা গাণিতিক সমীকরণ—বদলি খেলোয়াড়, পজিশন আর মাঠে খেলার সময়ের পার্থক্যের কারণে এটাকে কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত দৌড়ের নিখুঁত হিসাব বলা যাবে না। তবে স্রেফ ‘২১ কিলোমিটারের ব্যবধান’ বললে ব্যাপারটা যতটা ঝাপসা লাগে, এই হিসাবটা সেই বড় পার্থক্যকে চোখের সামনে একদম পানির মতো পরিষ্কার করে দেয়।
অবশ্য এখানে একটা স্পষ্ট সতর্কবার্তাও যোগ করা দরকার। বেশি দৌড়ানো মানেই যে ভালো ফুটবল খেলা, তা কিন্তু নয়। অসাধারণভাবে গুছিয়ে খেলা একটি দল সঠিক পজিশনিং, প্রতিপক্ষকে খেলায় নাচানো আর পরিকল্পিত হাই-প্রেসিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি বাঁচিয়ে খেলতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, বর্তমান রিয়াল মাদ্রিদকে এভাবে ব্যাখ্যা করার কোনো উপায় নেই। আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে যা ঘটেছিল, তা দেখে কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকেও মনে হয়নি যে অকাট্য ট্যাকটিক্যাল আধিপত্যের জোরে তারা “শক্তি বাঁচিয়ে” খেলছিল!
খেলোয়াড়দের যত্ন অবশ্য বেড়েছে
তা ছাড়া, সবকিছু যে একদম আগের মতোই রয়ে গেছে, তা-ও নয়। মরিনিয়ো আসার পর থেকে দলের কিছু নিয়মকানুন বেশ কড়াকড়ি করেছেন: ডায়েট, বিশ্রাম, রিকভারি, সময়ানুবর্তিতা আর অনুশীলনের বাইরের কাজকর্মে এখন জোর নজরদারি চলছে। ভালদেবেবাসে ফুটবলারদের কিছু অভ্যাসে শুধরে নেওয়ার সুযোগ ছিলই, আর পর্তুগিজ কোচ ফুটবলের এই ‘আড়ালে থাকা’ দিকগুলোয় হাত দিতে একদমই দেরি করেননি।
ট্রিটমেন্ট রুম আপাতত পেশির চোটের ঝঞ্জাট থেকে অনেকটাই মুক্ত। সব চোট এড়ানোকে নতুন কোচিং পদ্ধতির অবদান বলে দেওয়াটা হয়তো একটু তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে, তবে ফিটনেস ট্রেইনিং আর রিকভারির ওপর যে আগের চেয়ে কড়া নজর রাখা হচ্ছে—তা স্পষ্ট। সংক্ষেপে বললে, ম্যাচজুড়ে পা দুটোকে না খাটালেও রিয়াল হয়তো সেগুলোর যত্ন নিচ্ছে ভালোভাবেই। তবে শরীর সামলে রাখা আর মাঠের খেলায় সেই শরীর নিংড়ে দেওয়া—দুটো কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা!
