ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » লাখ লাখ আসন খালি রেখেও কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তিতে হিমশিম

লাখ লাখ আসন খালি রেখেও কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তিতে হিমশিম

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। সারাদেশের কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ২৫ লাখ আসন থাকলেও ভর্তি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের চরম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ, আসন সংখ্যার বিচারে বড় উদ্বৃত্ত থাকলেও মানসম্মত বা পছন্দের কলেজে স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। ফলে পাসের হার বা শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখেরও বেশি আসন ফাঁকা পড়ে থাকবে।

তবে শিক্ষাবিদদের মতে, মোট আসনের ঘাটতি না থাকলেও রাজধানীসহ দেশের নামি-দামি ও মানসম্মত কলেজগুলোতে আসনসংখ্যা সীমিত। ফলে ভালো ফল করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদেরও।

সারাদেশের কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে এ বছর অর্ধেকেরও বেশি আসন ফাঁকা থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রায় ২৫ লাখ ভর্তিযোগ্য আসনের বিপরীতে পাসের হার কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে সারাদেশে মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল এবং বাকি ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন ফাঁকা ছিল। ২০২৬ সালে পাসের হার আরও কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় ফাঁকা আসনের পরিমাণ গতবারের চেয়েও বাড়বে।

তবে আসন ফাঁকা থাকলেও ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে নিশ্চিত করেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান। বরাবরের মতো এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই একাদশে ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও পছন্দক্রমের (চয়েস লিস্ট) ভিত্তিতেই কলেজ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

‘ভালো’ কলেজে ভর্তিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলো এবং কিছু জেলায়ও নামি কলেজ রয়েছে। মূলত এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের টার্গেট থাকে এসব নামি কলেজে ভর্তি হওয়া। তারা পছন্দক্রমে নামি কলেজগুলোর নাম দিয়ে থাকে। এতে ঘুরেফিরে হাতেগোনা কিছু কলেজে ভর্তির আবেদন বেশি পড়ে। সেই কলেজগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তীব্র হয়।

ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, অনেক সময় জিপিএ-৫ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীও একাধিকবার আবেদন করেও কলেজ পায় না। এর কারণ তারা বারবার একটি বা দুটি কলেজ পছন্দ দেয়। কিন্তু ওই কলেজে দেখা যায়, সবই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। এমনকি জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক নম্বরে এগিয়ে থাকারা শেষ পর্যন্ত সেখানে ভর্তির সুযোগ পায়। সেজন্য শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দক্রম দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বোর্ডের এ কর্মকর্তা।

ভর্তি ফি কত, কোন কলেজগুলোতে খরচ বেশি

সম্প্রতি বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি একাদশে ভর্তি নিয়ে একটি বৈঠক করেছে। সেখানে আগের মতোই এসএসসির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভর্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এলাকাভেদে ভর্তি ফি ও অন্যান্য খরচও আগের মতোই থাকতে পারে।

ঢাকা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের একাদশে ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী- এমপিওভুক্ত কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা, জেলায় ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে দেড় হাজার টাকা।

নন-এমপিওভুক্ত কলেজের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ভার্সনে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, ইংরেজি ভার্সনে সাড়ে ৮ হাজার টাকা, মেট্রোপলিটন (ঢাকা ছাড়া) বাংলা ভার্সনে ৫ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৬ হাজার টাকা।

এছাড়া নন-এমপিও জেলায় বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বলে বাংলা ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা।

শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করার সময় রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি বাবদ ৫০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি বাবদ ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা, বিএনসিসি ফি ৫ টাকা, শিক্ষক কল্যাণ ফি ও অবসর সুবিধা ভাতা ফি ১০০ টাকাসহ মোট ৩৩৫ টাকা নিতে পারবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিয়মে খুব একটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। ভর্তি ফি ও অন্যান্য ফিও প্রায় একই রকম থাকবে। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হতে পারে। অথবা প্রকাশের পরপরই এটা শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে বলেও জানান বোর্ড চেয়ারম্যান।’

ভর্তি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে, ক্লাস শুরু শিগগির

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এ ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করার সময় রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি বাবদ ৫০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি বাবদ ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা, বিএনসিসি ফি ৫ টাকা, শিক্ষক কল্যাণ ফি ও অবসর সুবিধা ভাতা ফি ১০০ টাকাসহ মোট ৩৩৫ টাকা নিতে পারবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিয়মে খুব একটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। ভর্তি ফি ও অন্যান্য ফিও প্রায় একই রকম থাকবে। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হতে পারে। অথবা প্রকাশের পরপরই এটা শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে বলেও জানান বোর্ড চেয়ারম্যান।’

ভর্তি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে, ক্লাস শুরু শিগগির

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এ ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

এদিকে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে এগিয়ে ছাত্রীরা।

১১টি বোর্ডের ফলাফলে সবার ওপরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং তলানিতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। তবে শুধু সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের হিসাব কষলে ফলাফলে সবার নিচে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এছাড়া বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে