ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » লাখ ছাড়াল ডেঙ্গু রোগী, প্রাণহানি ৩০০

লাখ ছাড়াল ডেঙ্গু রোগী, প্রাণহানি ৩০০

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ জন রোগী। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ এক হাজার ৪৪২ জনে পৌঁছাল।

একই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ৪ জন। ফলে চলতি ২০২৬ সালে এডিস মশাবাহিত এই রোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৩০৭ জনে।

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিন ও ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে নারীরা এগিয়ে, বিভাগে শীর্ষে ডিএসসিসি ও খুলনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ৩০৭ জনের মধ্যে ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ।

ভৌগোলিক হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার আওতাধীন হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ ৮৪ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৩৬ জন মারা গেছেন। সিটি করপোরেশনের বাইরের ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ১৭ জন। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৩ জন, চট্টগ্রামে ২৭ জন, বরিশালে ২৬ জন, ময়মনসিংহে ২৩ জন, রাজশাহীতে ২২ জন, রংপুরে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩ জন মারা গেছেন।

অক্টোবরে সংক্রমণ ও প্রাণহানি তীব্র

মাসের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও মধ্যবছরের পর থেকে ক্রমান্বয়ে তা মারাত্মক রূপ নেয়। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে মারা গেলেও মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যু হয়নি। মে মাসে ১ জন ও জুনে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

তবে জুলাই মাস থেকে পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি শুরু হয়। জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে ভয়াবহ সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। আর চলতি অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনেই মারা গেছেন ৬২ জন। এর মধ্যে গত ৬ অক্টোবর একদিনেই এ বছরের সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।

অন্যদিকে, রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন চিকিৎসা নেন। আর চলতি অক্টোবর মাসের এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৮২২ জন রোগী। এর আগে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন, জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৩৩১ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চিকিৎসকরা এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশারির ব্যবহার জোরদার ও প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত রক্তের পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে