পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) লাগাতার রদবদল নিয়ে সমালোচনা চলছেই টানা। তবে দলের ক্রিকেটাররাও কি দায় এড়াতে পারেন? এবি ডি ভিলিয়ার্সের উত্তর- একেবারেই না।
ইংল্যান্ডে টানা দুই টেস্টে ভরাডুবির পর পাকিস্তান দলের ব্যাটিং নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক। তার চোখে, দলটির সবচেয়ে বড় ঘাটতি এখন ‘সাহস’ আর ‘লড়াইয়ের মানসিকতায়।’
চলতি ইংল্যান্ড সফরটা পাকিস্তানের জন্য দুঃস্বপ্নের মতোই শুরু হয়েছে। হেডিংলি ও লর্ডসে প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। চার ইনিংসের একটিতেও ২০০ রান পেরোতে পারেনি পাকিস্তান। প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছে মাত্র তিন দিনে। দ্বিতীয় টেস্ট চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে মূলত বৃষ্টির কারণে।
ধাক্কা খেয়ে এরপর বড় সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দলে ঢোকানো হয় একঝাঁক তরুণ মুখ। বদলে দেওয়া হয় টেস্ট কোচও- সরফরাজ আহমেদের জায়গায় দায়িত্ব পান সাদা বলের কোচ মাইক হেসন।
কিন্তু ডি ভিলিয়ার্সের মতে, সমস্যাটা শুধু বোর্ডে নয়, মাঠের ১১ জনের মধ্যেও। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া ভিডিওবার্তায় পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি।
“বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটে পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে সেই বাড়তি পরিশ্রম করার মানসিকতা আমি দেখি না। তাদের যথেষ্ট সাহস নেই, সেই লড়াইও নেই।”
তার কাছে টেস্ট ক্রিকেট মানেই চরিত্রের পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় পাকিস্তান এখন পিছিয়ে।
“সব সময় সুন্দর ক্রিকেট খেলতে হবে এমন নয়। কখনও কখনও ব্যাপারটা কদাকার হতে পারে, দেখতে খুব খারাপও লাগতে পারে। কিন্তু আপনাকে লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।”
নিজের ক্যারিয়ারের কথাও টেনেছেন ডি ভিলিয়ার্স। তার কাছে ক্রিকেট কখনোই শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডের খেলা ছিল না।
“আমি যদি নিজের অহংকারের জন্য খেলতাম, তাহলে হয়তো অন্য রকম ক্রিকেটার হতাম। আমার কাছে বরং গুরুত্বপূর্ণ ছিল- আজ মাঠে আমি কতটা ক্যারেক্টার দেখাতে পারি।”
‘পাকিস্তানের ক্যারেক্টার দরকার’
ডি ভিলিয়ার্সের সবচেয়ে বড় অভিযোগ এখানেই। কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মতো ব্যক্তিগত নেতৃত্ব এখন পাকিস্তান দলে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি।
“আমি সব সময় মনে করতাম, টেস্ট ক্রিকেট আপনার ক্যারেক্টারের পরীক্ষা। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের হয়তো সেটাই নেই- একটু চরিত্র, একটু লড়াই।”
সমাধানও বলে দিয়েছেন তিনি। দলের চার-পাঁচজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে সামনে থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু অধিনায়কের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না।
“চার-পাঁচজন খেলোয়াড় একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিক- আমরাই নেতা হব, আমরাই উদাহরণ তৈরি করব। তরুণদের দেখাব, টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি জিততে কী করতে হয়।”
বোর্ডের অস্থিরতাও দায়ী
তবে পাকিস্তানের দুর্দশার দায় শুধু ক্রিকেটারদের ঘাড়ে চাপাননি ডি ভিলিয়ার্স। পিসিবির লাগাতার ‘চপিং অ্যান্ড চেঞ্জিং’ সংস্কৃতিকেও বড় সমস্যা মনে করছেন তিনি।
কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান দলে অধিনায়ক, কোচ ও নেতৃত্ব কাঠামোয় একের পর এক পরিবর্তন এসেছে। জেসন গিলেস্পি ও গ্যারি কারস্টেনের মতো কোচও নানা টানাপোড়েনের পর দায়িত্ব ছেড়েছেন।
এর মধ্যেই আবার বাবর আজম ফিরেছেন নেতৃত্বের কেন্দ্রে। ডি ভিলিয়ার্স চান, এবার অন্তত তাকে সময় দেওয়া হোক।
‘বাবর আবার ফিরেছে। আশা করি, এবার সে দীর্ঘ সময় সুযোগ পাবে, ফিট থাকবে ও আমরা যে বাবরকে চিনি, সেভাবেই রান করবে। তাঁর সতীর্থদেরও সেই নেতৃত্ব অনুসরণ করতে হবে।”
