নবপ্রকাশ ডেস্ক
ডলারের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ কমাতে প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার ২ কোটি ডলার বিক্রির লক্ষ্য থাকলেও ছয়টি ব্যাংকের কাছে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। বিক্রি হওয়া ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ব্যাংকাররা। তাদের মতে, ডলারের চাহিদা বাড়ার কারণে দাম আরও বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করতে পারে—নিলামের মাধ্যমে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালের মাঝামাঝি বৈদেশিক মুদ্রার সংকট শুরু হলে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বাছাই করা কিছু ব্যাংকের কাছে সরাসরি ডলার বিক্রি করত। তবে এবার সেই পদ্ধতির পরিবর্তে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য নিলাম উন্মুক্ত রাখা হয়। সর্বোচ্চ দর দেওয়া ব্যাংকগুলোর কাছেই ডলার বিক্রি করা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দামও বেড়েছে। গতকাল প্রতি ডলারের দর ১২৩ টাকা ৪৫ পয়সায় উঠেছে, যেখানে আগের বৃহস্পতিবার ছিল ১২৩ টাকা ১০ পয়সা। এর আগে দর ১২৩ টাকার নিচে ছিল।
ব্যাংকারদের ভাষ্য, নিলামটি প্রথমবার হওয়ায় এবং স্বল্প সময়ের নোটিশে আয়োজন করায় অনেক ব্যাংক প্রত্যাশিতভাবে অংশ নিতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক দুপুর ১টার পর নিলামের তথ্য জানানোয় অনেক ব্যাংক এর আগেই দিনের প্রয়োজনীয় ডলারের ব্যবস্থা করে ফেলেছিল। ফলে ভবিষ্যতের নিলামে অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কয়েকটি রেমিট্যান্স হাউস গতকাল প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৪০ পয়সা দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রির প্রস্তাব দেয়। পরে দর বাড়িয়ে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা করা হলেও কয়েকটি ব্যাংক সেই দামে ডলার কিনতে আগ্রহ দেখায়নি। এর ফলে বাজারে ডলারের দামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
এর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামে তুলনামূলক কম দামে ডলার সরবরাহ হওয়ায় এলসি নিষ্পত্তি ও রেমিট্যান্স—উভয় বাজারেই ডলারের দর কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন ব্যাংকাররা। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরবরাহের কারণে রেমিট্যান্স হাউসগুলোর বেশি দামে ডলার বিক্রির প্রবণতাও কমতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৫ কোটি ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন রিজার্ভ বাড়াতে ডলার কেনার দিকেই বেশি সক্রিয় ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবার প্রথমবারের মতো রিজার্ভ থেকে উন্মুক্ত নিলামে ডলার বিক্রি করে বাজারে নতুন ভূমিকা নিল প্রতিষ্ঠানটি।
