আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিবাদ মিছিলের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবারের (১২ অক্টোবর ২০২৬) ওই বিক্ষোভ মিছিলটি কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই আয়োজন করা হয়েছিল এবং মিছিল চলাকালে ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার মতো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারাখাম্বা রোড ও তিলক মার্গ থানায় এই মামলা দুটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি
কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত এই ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিতে বিরোধী জোটের শীর্ষস্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের হেভিওয়েট নেতারা অংশ নেন। এই মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে নেতৃত্ব দেন—
-
কংগ্রেস সাংসদ ও লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
-
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে
-
সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব
-
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
-
আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং সিপিআইএম নেতা এম এ বেবি।
সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে মিছিল ও যৌথ আবেদন
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার হাজার হাজার সমর্থক ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বারাখাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যান বিরোধী নেতারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবিলম্বে অপসারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের জোর দাবি জানান তারা। পাশাপাশি, এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে একটি যৌথ আবেদনও করেছেন বিরোধী জোটের আইনজ্ঞ ও নেতারা।
চলতি ১০ দিনে দুই ডজনের বেশি মামলা
রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের কর্মসূচি ঘিরে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে হাজার হাজার মানুষকে আটক করেছিল পুলিশ।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ দিনের ব্যবধানে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন থানায় বিক্ষোভ প্রদর্শন, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, সহিংসতা ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগে দুই ডজনেরও বেশি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ১০ অক্টোবরের একটি বিক্ষোভের ঘটনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ২০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একের পর এক মামলা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপেও দমে না গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী শিবির।
