ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ছদ্মবেশে রাজপথে নারী পুলিশ কমিশনার: ৩ ঘণ্টায় মিলল ৪০ ‘কুপ্রস্তাব’

ছদ্মবেশে রাজপথে নারী পুলিশ কমিশনার: ৩ ঘণ্টায় মিলল ৪০ ‘কুপ্রস্তাব’

 

নবপ্রকাশ ডেস্ক: রাতের শহরে একা নারী কতটা নিরাপদ? অপরাধের পরিসংখ্যান নয়, বরং বাস্তব চিত্র সচক্ষে দেখতে সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে মাঝরাতে রাজপথে নেমেছিলেন ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের মালকাজগিরি জোনের পুলিশ কমিশনার সুমতী। কিন্তু মাত্র তিন ঘণ্টার সেই অভিজ্ঞতা ছিল রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। সাধারণ পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা এই নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে চিনতে না পেরে লালসার শিকার বানাতে চেয়েছিল অন্তত ৪০ জন পুরুষ।

 

যেভাবে শুরু অভিযান গত ১ মে মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন আইপিএস কর্মকর্তা সুমতী। দায়িত্ব নেওয়ার পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বুঝতে তিনি এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন। কোনো নিরাপত্তারক্ষী বা পুলিশের গাড়ি ছাড়াই সাধারণ সালোয়ার-কামিজ পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের একটি নির্জন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়ান তিনি। উদ্দেশ্য ছিল—গভীর রাতে একজন সাধারণ নারী ঘর থেকে বের হলে ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তা সরাসরি দেখা।

 

তিন ঘণ্টার তিক্ত অভিজ্ঞতা রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ওই বাসস্টপে অবস্থান করেন সুমতী। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৪০ জন পুরুষ তার কাছে এসে অশালীন কথা বলে এবং কুপ্রস্তাব দেয়। কমিশনার জানান, যারা তাকে উত্যক্ত করেছিল তাদের অধিকাংশই ছিল মদ্যপ অথবা মাদকাসক্ত।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উত্যক্তকারীদের মধ্যে শুধু ভবঘুরে বা বখাটে নয়, বরং শিক্ষিত তরুণ, শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীরাও ছিলেন। তারা কেউই বুঝতে পারেননি যে, যাকে তারা ‘সহজলভ্য’ ভেবে কথা বলছেন, তিনি আসলে শহরের একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।

 

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অভিযান শেষে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ওই ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের থানায় ডেকে আনা হয়। সেখানে তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিশেষ কাউন্সেলিং করানো হয়। জনসমক্ষে নারীদের প্রতি কেমন আচরণ করা উচিত, সে বিষয়ে তাদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

সাহসী সেই পুলিশ কর্মকর্তা তেলেঙ্গানা ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা সুমতী এর আগেও তার সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রায় ২৫ বছর আগে কর্মজীবনের শুরুতে ডিএসপি থাকাকালীন কাজিপেট রেলস্টেশনে একইভাবে ছদ্মবেশে অপরাধী ধরেছিলেন তিনি। এছাড়াও স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসআইবি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং মাওবাদী দমনে তার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।

 

জনমনে স্বস্তি কমিশনারের এমন সাহসী পদক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। স্থানীয় নারীরা মনে করছেন, শীর্ষ কর্মকর্তারা যদি এভাবে নিয়মিত তদারকি করেন, তবে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে এবং রাতের শহর নারীদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে