ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » রাজধানীর বাজার দর: রেকর্ড দামে সোনালি মুরগি, ঊর্ধ্বমুখী সবজি ও মাংসের বাজারে নাভিশ্বাস

রাজধানীর বাজার দর: রেকর্ড দামে সোনালি মুরগি, ঊর্ধ্বমুখী সবজি ও মাংসের বাজারে নাভিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল নিত্যপণ্যের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে। কিন্তু রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। চাল ও ডালের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও মাছ, মাংস ও সবজির দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে সোনালি মুরগির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে আমিষের এই উৎসটি। আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ ও কচুক্ষেত বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

 

আজকের বাজারের সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবর হলো সোনালি মুরগির দাম। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম প্রায় ৫২% বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি ৪২০ থেকে ৪৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক বাজারে এই দাম ৪৪০ টাকা পর্যন্তও দাবি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, খামারে মুরগির সংকট এবং পরিবহন খরচ বাড়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেশি।

 

অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় স্থির রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের আমিষের চাহিদা মেটানোর প্রধান উৎস ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। লাল ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস মানভেদে ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংসের দোকানের সামনে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল গত কয়েকদিনের তুলনায় তুলনামূলক কম। রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও খুচরা পর্যায়ে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজিই এখন কেজি প্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে।

 

* পেঁয়াজ ও আলু: দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
* অন্যান্য সবজি: করলা, বেগুন ও পটল মানভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের ঝালও কমছে না; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়।
* মসলা: রসুনের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, দেশি রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদার দামও কেজি প্রতি ২২০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।
চালের বাজার গত সপ্তাহের তুলনায় খুব একটা না বাড়লেও আগে থেকেই এটি উচ্চমূল্যে অবস্থান করছে। সরু নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, মাঝারি মানের পাইজাম বা আটাশ চাল ৬০ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

ভোজ্যতেলের বাজারে ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ১৯৯ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৫০ থেকে ৯৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির বাজারে সরবরাহের ঘাটতির অজুহাতে কেজি প্রতি ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকা রাখা হচ্ছে। মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা স্কুল শিক্ষক জনাব হারুনুর রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঈদের পর ভেবেছিলাম খরচ কমবে, কিন্তু বাজারে এসে দেখি সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। বিশেষ করে সোনালি মুরগির এই দাম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের এখন মাছ-মাংস বাদ দিয়ে শুধু সবজি খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই।”
অন্যদিকে, কারওয়ান বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, “আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনি, সামান্য লাভে তা বিক্রি করি। আড়তগুলোতে মাল কম থাকলে আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হয়। ফলে ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব পড়ে।”

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রমজান ও ঈদ পরবর্তী সময়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন একদল অসাধু ব্যবসায়ী। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা বিশেষ কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারি সংস্থাগুলোর উচিত নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
অন্যথায়, উৎসব পরবর্তী এই সময়ে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে আরও কঠিন করে তুলবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে