ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » যেভাবে গ্রে’প্তার হলেন সালমান শাহ হ’ত্যার আসামি ডন

যেভাবে গ্রে’প্তার হলেন সালমান শাহ হ’ত্যার আসামি ডন

বিনোদন ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সৌদি আরব যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন ডন। এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে তাঁকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান আদালতে আবেদনে উল্লেখ করেন, এজাহারে ডনের বিরুদ্ধে অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, ১৯৯৭ সালে সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় আসামি রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ডনের নাম উঠে আসে। ওই স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তিনি আদালতে বলেন, সালমান শাহকে হত্যার জন্য ডন, ফারুক ও রেজভির মধ্যে ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগ মামলার তদন্তাধীন বিষয় এবং আদালতে প্রমাণিত নয়।

কীভাবে মামলাটি হলো: ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পারিবারিক নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ২৫ বছর।

মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি; তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে আসেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্তে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ অব্যাহত থাকে।

এর ধারাবাহিকতায় আদালতের নির্দেশে গত বছরের ২১ অক্টোবর রমনা থানায় সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় তাঁর স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার বর্তমানে সিআইডির হাতে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

মামলা হওয়ার পর আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যেভাবে মৃত্যু হয়েছিল সালমান শাহর: ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ইস্কাটনের বাসায় ছেলের সঙ্গে দেখা করতে যান। তবে দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে আসেন।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে নীলা চৌধুরী ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁর বাসায় যান। সেখানে সালমান শাহকে বিছানায় দেখতে পান তিনি।

পরে তাঁকে ইস্কাটনের বাসা থেকে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের অভিযোগ ও আইনি লড়াই থামেনি। নতুন হত্যা মামলার তদন্তে এখন সেই পুরোনো রহস্যের নতুন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে