ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » মাস্ক-আম্বানি দ্বন্দ্বে নতুন মোড়

মাস্ক-আম্বানি দ্বন্দ্বে নতুন মোড়

ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর লাইসেন্স নিয়ে ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও মার্কিন প্রযুক্তিবিদ ইলন মাস্কের দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিয়েছে। এবার ভারতে স্টারলিংককে অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সহযোগী সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ (এসজেএম)।

মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি। একই সঙ্গে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি ও ভারত সরকারকে পরোক্ষভাবে লক্ষ্য করে মাস্কের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে তারা। খবর দ্য প্রিন্টের।

গত শনিবার আম্বানির সমালোচনা করেন ইলন মাস্ক। তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। এসব প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, রিলায়েন্সের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান বিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার-প্রচারণা জোরদারে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া রিলায়েন্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাসীন দলকে বিপুল অঙ্কের রাজনৈতিক অনুদান দিয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে সম্বোধন করেন মাস্ক। একই সঙ্গে একচেটিয়া ব্যবসা সুরক্ষার অভিযোগ তোলেন তিনি। ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুতে বিলম্ব হওয়া নিয়েও আম্বানির সমালোচনা করেন মাস্ক।

তবে মাস্কের অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রিলায়েন্স। অন্যদিকে ভারত সরকার বলেছে, টেলিযোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সেবার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির নীতিমালা ‘ন্যায্য ও বৈষম্যহীন’। কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাছাই করে নীতিমালা প্রয়োগের অভিযোগও ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণাপ্রসূত বলে জানিয়েছে সরকার।

এসজেএমের জাতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজন বলেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান করতে ব্যর্থ হলে স্টারলিংককে অনুমতি না দেওয়ার অধিকার দেশটির রয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি।

তিনি বলেন, ‘স্টারলিংককে আটকে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছে এই বার্তা দেওয়া সম্ভব যে, প্রকৃত জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ভারত স্টারলিংকের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

মহাজন মাস্কের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভারতে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবা চালু ও পরিচালনার লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছে স্টারলিংক। তবে এখনো প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যদিও তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যানও করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকে স্টারলিংকের কাছে যেসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর জবাব দেওয়ার পরিবর্তে ভারতীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারকে পরোক্ষভাবে আক্রমণ করে অভিযোগ তোলার পথ বেছে নিয়েছেন ইলন মাস্ক। এটি দুর্ভাগ্যজনক।’

মহাজনের অভিযোগ, সরকারের ওপর জনমত তৈরির চাপ সৃষ্টি করে স্টারলিংক লাইসেন্স আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। অথবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ করতে না পেরে হতাশা থেকে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন মাস্ক।

এসজেএমের এই নেতা বলেন, ‘মনে হচ্ছে, স্টারলিংক হয়তো নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করতে প্রস্তুত নয়। ফলে ইলন মাস্ক হয় সরকারের বিরুদ্ধে জনচাপ সৃষ্টি করে লাইসেন্স আদায়ের চেষ্টা করছেন, নয়তো নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণে ব্যর্থতার হতাশা থেকে এসব বক্তব্য দিচ্ছেন।’

মহাজন বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দাঙ্গা, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনেক সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভারত বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও দেশবিরোধী প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দাঙ্গা, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায়ই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়ে।’

স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে লেজার সংযোগব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মহাজন। তার আশঙ্কা, এ ব্যবস্থার কারণে ভারতের ইন্টারনেট ট্রাফিক দেশটির অভ্যন্তরীণ গেটওয়ে এড়িয়ে বিদেশি অবকাঠামোর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। এতে আইনসম্মত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মহাজন বলেন, ভারত সরকার চায়, দেশটির ইন্টারনেট ট্রাফিক ভারতের ভেতরে অবস্থিত গেটওয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হোক।

এ ছাড়া প্রচলিত টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের বাইরে যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেট শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী, চোরাকারবারি ও বিদ্রোহীরা ব্যবহার করতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

ইউক্রেন, ইরান, রাশিয়া, চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও সুদানের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্টারলিংকের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে এসজেএমের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান মহাজন।

ভারতে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ওই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ও জেডটিইর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিল এসজেএম।

মহাজন বলেন, ‘এসজেএমের বিরোধিতার পর হুয়াওয়ে কিংবা অন্য চীনা প্রতিষ্ঠান জেডটিইকে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে ফাইভ-জি প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করা ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞানীরা শেষ পর্যন্ত ফাইভ-জি প্রযুক্তি তৈরি করেন, যা জনপ্রিয়ভাবে ৫জিআই নামে পরিচিত।’

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে স্টারলিংক লাইসেন্স না পেলেও ভারতের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালু বাধাগ্রস্ত হবে না।

মহাজনের ভাষ্য, ‘ভারত সরকারের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান করতে না পারায় ইলন মাস্কের স্টারলিংক লাইসেন্স না পেলে তার অর্থ এই নয় যে ভারত স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা দিতে পারবে না। দেশীয় প্রযুক্তিতে এ ধরনের সেবা চালু করতে কিছুটা দেরি হলেও স্টারলিংকের তুলনায় অনেক কম খরচে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে।’

তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্টারলিংকের অনুমোদন আটকে দেওয়া হলে দেশীয় স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়াও সহজ হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে