ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » মার্কিন আকাশেই চীনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের চোখ!

মার্কিন আকাশেই চীনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের চোখ!

উৎক্ষেপণস্থল থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমার কাছে থাকা বিমানে আঘাত হানতে সক্ষম এক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে চীন। মঙ্গলবার চীনা সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, চীন এমন হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল তৈরি করেছে; যা হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এয়ারক্রাফটের মতো দূরপাল্লার উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম। এই বিষয়ে সরাসরি অবগত একটি সূত্র ব্লুমবার্গকে চীনের নতুন এই অস্ত্রের তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার অস্ত্রের সরবরাহ সংকটে ভুগছে, ঠিক তখনই বেইজিংয়ের অস্ত্রাগারে যুক্ত হয়েছে এই শক্তিশালী প্রযুক্তি।

চীনা এই প্রযুক্তি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার, আকাশ থেকে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণকারী বিমান এবং উড়ন্ত কমান্ড পোস্টের মতো বিমানগুলোর জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ব্লুমবার্গকে বলেছেন, চীনা সামরিক বাহিনী কিছু হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে আকাশ থেকে আকাশে লক্ষ্যভেদের প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। পাশাপাশি কয়েকটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে জাহাজ-বিধ্বংসী সক্ষমতাও তৈরি করেছে।

বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে চীনই প্রকাশ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল (এইচজিভি) তৈরি ও পরিচালনা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সংগ্রহে ৩ হাজার ১৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক অস্ত্র রয়েছে; যা বিশ্বে সর্বাধিক। সামরিক অভিযানের পরিধি বাড়াতে বেইজিং যেভাবে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র বহরকে ঢেলে সাজাচ্ছে, এই অর্জন তারই অন্যতম বড় দৃষ্টান্ত।

হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল (এইচজিভি) মূলত এক ধরনের বিশেষ ওয়ারহেড। এই ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে উৎক্ষেপণের পর বায়ুমণ্ডলে শব্দের চেয়ে বহুগুণ দ্রুতগতিতে দিক পরিবর্তন করে উড়ে যেতে পারে। লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার পথে হঠাৎ দিক পরিবর্তনের ক্ষমতার কারণে এর আঘাত হানার সীমা যেমন বাড়ে, তেমনি মাঝপথে একে ধ্বংস বা আটকে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

চীনের ডিএফ-১৭ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি এইচজিভি প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এই দূরত্ব চীন থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটি গুয়াম ভূখণ্ডের ব্যবধানের প্রায় সমান।

অন্যদিকে, বেইজিংয়ের আরও সর্বাধুনিক ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক পাল্লা প্রায় ৮,০০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ, চীন থেকে প্রায় হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মতো সুদূরবর্তী অঞ্চলের মার্কিন সামরিক সরঞ্জামও এখন এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।

তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রূপান্তর করে দূরবর্তী উড়োজাহাজে আক্রমণ করা বেশ ব্যয়বহুল, কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ২০ মিনিট বা তার বেশি সময় লাগে। এজন্য পুরো সময়জুড়ে নিখুঁত ও ক্রমাগত হালনাগাদকৃত উপাত্ত প্রয়োজন হয়।

দূরবর্তী সেন্সর থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে তথ্য পৌঁছানোর এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে সামরিক ভাষায় ‘কিল চেইন’ বলা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই কিল চেইনের সময়সীমা বেশি হওয়ায় প্রতিপক্ষের পক্ষে এতে দূর থেকেই ব্যাঘাত ঘটানো বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া সহজ।

এছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালালে প্রতিপক্ষ দেশ একে পারমাণবিক আক্রমণ মনে করে ভুল করতে পারে। ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ বলছে, এই ধরনের ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি অস্ত্রটির ব্যবহারকে জটিল করে তোলে; বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সময়, এটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পারমাণবিক সংঘাত উসকে দিতে পারে।

এসব ঝুঁকি সত্ত্বেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কাজ আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে বেইজিং।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে