আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মানবভ্রূণের জিনবিন্যাস ‘নিখুঁত ভাবে’ বদলে দিতে সক্ষম হলেন বিজ্ঞানীরা। আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন বিজ্ঞানীরা প্রায় নির্ভুল ভাবে প্রাথমিক পর্যায়ের মানবভ্রূণের ডিএনএ কাঠামোর রদবদলে সক্ষম হয়েছেন।বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছিল বহু বছর ধরেই। অবশেষে এল প্রত্যাশিত সাফল্য।
এমন ধারার গবেষণার ‘নীতিগত বৈধতা’ নিয়ে অবশ্য বিতর্ক রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, ভ্রূণের জিনকাঠামো ওলট-পালট করে গর্ভপাত, বন্ধ্যাত্ব, অ্যালঝাইমার, ক্যানসার-সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ নির্ণয় এবং তার নিরাময় সম্ভব। এ ছাড়া, কোনও শিশু কেন জটিল রোগ নিয়ে জন্মায় তা বুঝতেও এই গবেষণা অত্যন্ত জরুরি। যদিও জিন বিজ্ঞানীদেরই একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে ভ্রূণের ডিএনএ পরিবর্তন করে ‘ডিজাইনার শিশু’ জন্ম দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। ইউরোপের অনেক দেশেই তাই এ সংক্রান্ত গবেষণার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি, জিনের কাঠামো বদল করা ভ্রূণ কোনও মহিলার জরায়ুতে প্রবেশ এখনও ব্রিটেনে বেআইনি।
এই সাফল্য ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু তৈরির পথ খুলে দিতে পারে ইঙ্গিত দিয়েছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও। তাঁদের দলনেতা ডিটার এগলি ভ্রূণের ডিএনএ পরিবর্তনের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে জনসমক্ষে খোলাখুলি আলোচনা করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি বলেন, “একজন বিজ্ঞানী হিসাবে আপনি আলোচনার জন্য তথ্য দিতে পারেন। কিন্তু তার পর সেখানেই আপনার ভূমিকা শেষ হয়ে যায়। এর পরে বিষয়টি অন্যদের হাতে ছেড়ে দিতে হয়।” অন্য দিকে, আমেরিকার কিছু জিন-নীতিবিদ একে ‘ইউজেনিক্স’ (মানব প্রজননকে গুণগত বাছাইয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ) বলে অভিযোগ তুলেছেন।
[জিন বিজ্ঞানীদের একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে ভ্রূণের ডিএনএ পরিবর্তন করে ‘ডিজাইনার শিশু’ জন্ম দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। ইউরোপের অনেক দেশেই তাই এখনও এ সংক্রান্ত গবেষণার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।]
এগলি জানিয়েছেন ‘বেস এডিটিং’ নামে একটি নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা ডিএনএ-র (যার সাহায্যে জিন গঠিত) বিন্যাস অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে জিনবিন্যাস বদলের পদ্ধতি ছিল ‘ক্রিসপার’। কিন্তু সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে প্রায়শই ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হত। নতুন পদ্ধতিতে সেই ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে বলেই কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ। তবে সতর্ক এগলি জানিয়েছেন, এই গবেষণা এখনও ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। তিনি বলেন, “আমরা কখনওই বলছি না যে এটি আগামিকালই ক্লিনিকে ব্যবহার করা হবে।” প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে বিজ্ঞানীরা ক্রিসপার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন। ২০২৩ সালে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিকল সেল অ্যানিমিয়ার জন্য একটি ক্রিসপার-ভিত্তিক চিকিৎসা অনুমোদন করেছিল। এ ক্ষেত্রেও বিষয়টি সময়সাপেক্ষ বলেই মনে করা হচ্ছে।
