তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, জোটটি ভবিষ্যতে আরও সদস্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত এবং সম্ভাব্য নতুন সদস্যদের তালিকায় রয়েছে কায়রোও।
আল জাজিরার “আল মুকাবালা” অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান “মক্কা প্যাক্ট”-কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি জানান, চুক্তির কোনো সদস্য রাষ্ট্র বহিরাগত কোনো পক্ষের সশস্ত্র হামলার শিকার হলে তিন দেশ যৌথভাবে পদক্ষেপ নেবে।
গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে এই চুক্তিতে সই করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে—যে কারণে বিশ্লেষকেরা এই কাঠামোকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, এটিকে ন্যাটোর সমতুল্য ভাবা ঠিক হবে না এবং চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।
এই চুক্তির আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দোহায় ইসরায়েলি হামলার পরপরই পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছিল, যা মক্কা চুক্তির পথ প্রশস্ত করে।
সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া আঙ্কারার অন্যতম অগ্রাধিকার, কারণ এটি বন্ধ থাকা কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয়।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
