ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ভুয়া মামলা-জিডিতে সিডিআর ও এনআইডি তথ্য বিক্রি: চক্রের চার পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

ভুয়া মামলা-জিডিতে সিডিআর ও এনআইডি তথ্য বিক্রি: চক্রের চার পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

নবপ্রকাশ ডেস্ক

ভুয়া মামলা ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে সাধারণ নাগরিকদের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), সর্বশেষ মোবাইল লোকেশন, এনআইডি ও পাসপোর্টের মতো গোপনীয় তথ্য চুরির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারি ইমেইল ও পদবি অপব্যবহার করে সংগৃহীত এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উচ্চমূল্যে বিক্রি করত এই চক্রটি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—তুরাগ থানার কনস্টেবল জিহাদ মিয়া, ডেমরা থানার সাইমুম হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া এবং ওয়ারী থানার নিজাম উদ্দীন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারি গোপনীয়তা আইন (অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট) এবং দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪০৯ (সরকারি কর্মচারী কর্তৃক বিশ্বাসভঙ্গ) ও ১০৯ (অপরাধে সহায়তা) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ মামলাটির তদন্ত পরিচালনা করছে।

যেভাবে হতো তথ্য চুরি

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর তুরাগ থানার ওসির সরকারি ইমেইল ব্যবহার করে ১১টি মোবাইল নম্বরের তিন মাসের সিডিআর চেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে ইমেইল পাঠানো হয়। ইমেইলে ১৩ জুলাইয়ের একটি জিডি নম্বর এবং অনুসন্ধানী কর্মকর্তা হিসেবে এএসআই শাহীনুল কবিরের নাম ব্যবহার করা হয়। ডিবি পুলিশ ওই আবেদন অনুযায়ী গ্রামীণফোনের চারটি নম্বরের সিডিআর তুরাগ থানায় পাঠায়। পরবর্তীতে ডিবির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে—তুরাগ থানায় ওই তারিখে এমন কোনো জিডি হয়নি এবং এএসআই শাহীনুলও কোনো সিডিআর চাননি। কনস্টেবল জিহাদ মিয়া সম্পূর্ণ ভুয়া জিডির অজুহাতে তথ্য সংগ্রহ করে তা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে বাইরে বিক্রি করে দেন।

একইভাবে ২০১৬ সালের ২৮ মে ডেমরা থানার ওসির সরকারি ইমেইল ও এসআই শাহ আলমের নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া মামলার সূত্রে চারটি মোবাইল নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করেন কনস্টেবল সাইমুম হোসেন ও মাসুম মিয়া।

অনলাইনে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের হাট

সম্প্রতি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিসমিসল্যাব’-এর অনুসন্ধানে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রিতে সক্রিয় অন্তত ১০টি ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমে শত শত বিজ্ঞাপনের প্রমাণ পাওয়া যায়। অনলাইন চক্রগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলেই মিলে যাচ্ছে সিডিআর, পাসপোর্ট, সিমের মালিকানা, রেডিও লোকেশন, আইএমইআই নম্বর, এমনকি বিকাশ বা নগদের লেনদেনের বিবরণী।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-২ নাগরিক তথ্য ফাঁসে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে আব্দুস সালাম সরকার নামে এক ব্যক্তি ‘ই-সেবা২৪ডটটপ’ নামে একটি এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব তথ্য বিক্রি করতেন। তিনি আগে নির্বাচন কমিশনে চুক্তিভিত্তিক কাজ করার সুবাদে সরকারি সার্ভারের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়েছিলেন।

তদন্তকারীদের বক্তব্য

রমনা থানার ওসি ইয়াছিন মিয়া জানান, ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং তারাই এর তদন্ত করছে।

ডিবি সাইবার ক্রাইম বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি পদের বিশ্বাসভঙ্গ করে যারা নাগরিকের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করেছে, তাদের পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। অভিযান সম্পন্ন হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এসআরবি-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, নাগরিকের তথ্য বেহাত ও বিক্রির সঙ্গে আরও কারা কীভাবে যুক্ত রয়েছে, তা বের করতে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে