ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ব্যাটারি রিকশায় আসছে কঠিন শর্ত, মানতে হবে যেসব নিয়ম

ব্যাটারি রিকশায় আসছে কঠিন শর্ত, মানতে হবে যেসব নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্টদের তথ্য। এসব রিকশা নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। এতে নিবন্ধন, লাইসেন্স, গতিসীমা, মালিকানা এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতদিন অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলা ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য আলাদা রঙ নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। নিয়ম ভাঙলে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বাধ্যতামূলক

নতুন নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে নতুন নিবন্ধন দেওয়া হবে না। এমনকি পুরোনো নিবন্ধনও নবায়ন করা হবে না।

শুধু ঢাকা নয়, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়েও এ ধরনের বিধান কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিবন্ধন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন ও নম্বর নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। পাশাপাশি চালককেও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে।

কোন এলাকায় কতসংখ্যক ই-রিকশা চলাচল করবে, তা নির্ধারণ করবে স্থানীয় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি।

মালিকানায়ও সীমা

একজন ব্যক্তি ইচ্ছামতো শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক হতে পারবেন না। প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজ নামে সর্বোচ্চ তিনটি মধ্যমগতির অথবা পাঁচটি ধীরগতির রিকশার মালিক হতে পারবেন।

তবে নিবন্ধিত পরিবহন কোম্পানি সর্বোচ্চ ২৫টি মধ্যমগতির ই-রিকশার মালিক হতে পারবে।

নির্ধারণ করা হচ্ছে গতিসীমা

মধ্যম ও ধীরগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা মূল মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে না। তবে মহাসড়কের পাশে সার্ভিস লেন থাকলে সেখানে চলাচলের সুযোগ থাকবে।

মধ্যমগতির ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার এবং ধীরগতির ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া এসব যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস সনদ এবং হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন থাকতে হবে।

অবৈধ রিকশার জন্য এক বছরের সময়

বর্তমানে রাস্তায় চলাচল করা অননুমোদিত রিকশাগুলোকে একেবারে বাদ না দিয়ে রূপান্তরের সুযোগ দিতে চায় সরকার। নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর বিদ্যমান অনিরাপদ রিকশাগুলোকে অনুমোদিত ও নিরাপদ মডেলে রূপান্তরের জন্য এক বছর সময় দেওয়া হবে।

এই সময়ের মধ্যে রূপান্তর না করলে মেয়াদ শেষে অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইচ্ছেমতো রিকশা তৈরি করা যাবে না

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যে কেউ ইচ্ছেমতো গ্যারেজে ই-রিকশা তৈরি করতে পারবেন না। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত হতে হবে। রিকশার ব্যাটারি, মোটর, ব্রেক, চার্জারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।

নীতিমালা লঙ্ঘন করলে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী পরিবহনের মাধ্যম, অন্যদিকে লাখ লাখ মানুষের জীবিকার উৎস। তাই একেবারে বন্ধ না করে নিবন্ধন, জোনভিত্তিক চলাচল, গতিসীমা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এসব যানবাহনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনাই লক্ষ্য।

নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে সড়কে শৃঙ্খলা, যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কতটা সুফল আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে