ক্রীড়া প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে লিওনেল মেসিকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তা আপাতত বড় কোনো দুঃসংবাদে রূপ নিচ্ছে না। ইন্টার মায়ামির হয়ে সর্বশেষ ম্যাচে উরুর পেছনে অস্বস্তি অনুভব করায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরকে। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অধিনায়কের এই চোট গুরুতর কিছু নয়।
বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ঠিক এই সময়ে লিওনেল মেসিকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তা আপাতত বড় কোনো আতঙ্কে রূপ নিচ্ছে না। ইন্টার মায়ামির সর্বশেষ ম্যাচে উরুর পেছনে অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ছাড়লেও, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের চোট গুরুতর নয় বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ম্যাচে যা ঘটেছিল:
ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৬-৪ গোলের রোমাঞ্চকর এক জয়ের ম্যাচে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন মেসি। ম্যাচ চলাকালে একটি ফ্রি-কিক নেওয়ার পরপরই তাকে উরুর পেছনের অংশে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এর কিছুক্ষণ পরই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে মহাতারকার এমন দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই কোটি কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থকের মনে ভয়ের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল।
কোচের চোখে ক্লান্তি, চোট নয়:
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার মায়ামির কোচ গুইলার্মো হোয়োস সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসেনি, তবে কোচের ধারণা—ভারী মাঠে খেলার ক্লান্তি থেকেই এমন অস্বস্তি। তিনি জানান, বিষয়টিকে তিনি গুরুতর চোট হিসেবে দেখছেন না। ভারী মাঠে অতিরিক্ত খেলার ক্লান্তির কারণেই মূলত মেসিকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুসংবাদ:
আর্জেন্টাইন জনপ্রিয় সাংবাদিক লিও পারাদিজো ইএসপিএন স্পোর্টসসেন্টারে নিশ্চিত করেছেন যে, মেসি মূলত মাংসপেশির ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। কোনো ধরনের বড় চোট এড়াতে মেসি নিজেই বাড়তি সতর্ক ছিলেন বলে জানান এই সাংবাদিক। ফলে বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তার খেলা নিয়ে আপাতত বড় কোনো শঙ্কা নেই।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়নি, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় একটি স্বস্তির খবর। বদলি হওয়ার আগে কিছু সময় তিনি মাঠে কিছুটা ধীর গতিতে খেললেও, পরে নিজেই বেঞ্চের দিকে বদলির ইঙ্গিত দেন এবং সরাসরি ড্রেসিংরুমের টানেলের দিকে চলে যান।
জয়ে অবদান রেখে মাঠ ত্যাগ:
ম্যাচটিতে নিজে কোনো গোল না পেলেও ইন্টার মায়ামির আক্রমণভাগে বরাবরের মতোই চাবিকাঠি ছিলেন মেসি। দলের ৬-৪ গোলের নাটকীয় জয়ে দুটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে যোগ দেওয়ার আগে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে এটিই ছিল তার শেষ ক্লাব ম্যাচ।
আপাতত সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে মেসির জাদু দেখার জন্য।
