খুলনা প্রতিনিধি : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনার দক্ষিণ দিহি কমপ্লেক্সে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক ও লোকজ মেলার আজ শেষ দিন। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত এই আয়োজনকে ঘিরে গত দুই দিন ধরে দর্শনার্থী, সাহিত্যপ্রেমী, সাংস্কৃতিককর্মী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
খুলনার ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ দিহি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রবীন্দ্রভক্তদের অংশগ্রহণে নানা আয়োজন করা হয়। মেলার শেষ দিনে থাকছে আলোচনা সভা, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা, নৃত্যানুষ্ঠান, আবৃত্তি, নাট্য পরিবেশনা এবং গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ।
উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজক জেলা প্রশাসন খুলনার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রচর্চা ও বাঙালির ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা। তিনদিনের এ উৎসবে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টলে স্থান পেয়েছে লোকজ হস্তশিল্প, মাটির তৈরি সামগ্রী, গ্রামীণ খাবার, বই ও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল একজন কবি নন, তিনি বাঙালির চেতনা, সংস্কৃতি ও মানবতার প্রতীক। তার জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, দক্ষিণ দিহির পরিবেশ, লোকজ আয়োজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মিলিয়ে পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার দাবি জানান। স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রাতে সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনদিনব্যাপী এ মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
