২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ ছিলেন মালিনী শর্মা। মডেলিং, মিউজিক ভিডিও, টেলিভিশন এবং বলিউড—সব জায়গাতেই ছিল তার উপস্থিতি।বিশেষ করে ‘রাজ’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘আপকে পেয়ার মে’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।
কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতেই যখন জনপ্রিয়তা বাড়ছিল, তখনই হঠাৎ করে নিজেকে আড়ালে নিয়ে নেন মালিনী। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে আর বলিউডের পর্দায় দেখা যায়নি। প্রায় দুই দশক পর জানা গেল, চাকচিক্যময় অভিনয়জীবন ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছেন একেবারেই ভিন্ন ধরনের জীবন।
মালিনী শর্মার পরিচিতি শুরু হয় মডেল হিসেবে। এরপর বিভিন্ন জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতে কাজ করে দর্শকদের নজরে আসেন তিনি। বম্বে ভাইকিংসের ‘ক্যা সুরত হ্যায়’ এবং মিকা সিংয়ের ‘সাওয়ান মে লাগ গয়ি আগ’-এর মতো গানে তাকে দেখা গেছে।পরে টেলিভিশনেও অভিনয় করেন মালিনী।চার্লি’স অ্যাঞ্জেলস থেকে অনুপ্রাণিত ভারতীয় টিভি সিরিজ ‘ক্যাট্স’-এ অভিনয় করে আরো পরিচিতি পান তিনি। এই সিরিজে তার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নাফিসা জোসেফ ও কুলজিত রন্ধাওয়া।২০০২ সালে বিক্রম ভাটের হরর সিনেমা ‘রাজ’-এ অভিনয়ের সুযোগ পান মালিনী। বিপাশা বসু ও ডিনো মোরিয়ার অভিনয়ে সিনেমাটি সে সময় ব্যাপক সাড়া ফেলে।তবে সিনেমাটির পাশাপাশি ‘আপকে পেয়ার মে’ গানটিও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।গানটিতে মালিনীর উপস্থিতি তাকে রাতারাতি পরিচিত করে তোলে। তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বলিউডে তার ক্যারিয়ার আরো বড় পরিসরে এগিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
২০০২ সালে ‘এনকাউন্টার’ সিনেমার শুটিং শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে মালিনী ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সে সময় এমনও খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, অভিনয়ের পাশাপাশি ক্যামেরার পেছনে কাজ করার বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল।
এই সময়ের কাছাকাছি মালিনী শর্মা বিয়ে করেন ‘তুম বিন’ সিনেমার অভিনেতা প্রিয়াংশু চ্যাটার্জির-কে। তবে তাদের দাম্পত্য জীবন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
এরপর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন মালিনী। একসময় বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যান তিনি।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মালিনীর জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। তিনি শুরু করেন ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামের একটি উদ্যোগ। স্থানীয় খাবার, হাতে তৈরি পণ্য, কারুশিল্প ও বিভিন্ন কর্মশালাকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়।
মুম্বাইয়ের ভার্সোভায় ছোট পরিসরে পপ-আপ আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল ‘দ্য স্লো লোকাল’। সেখানে ঘরে তৈরি রুটি, গ্র্যানোলা, জ্যাম, পিনাট বাটার, দক্ষিণ ভারতীয় কফি ও বিভিন্ন ধরনের তেল পাওয়া যেত।
পরে শহুরে জীবন ছেড়ে গ্রামাঞ্চলের দিকে চলে যান মালিনী। প্রকৃতি, স্থানীয় খাবার ও ধীরগতির জীবনযাপনকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলেন নতুন জীবন।
বর্তমানে ভারতের মহারাষ্ট্রের সাহ্যাদ্রি পাহাড়ি এলাকায়, পুনে থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে বসবাস করছেন মালিনী।
