নবপ্রকাশ ডেস্ক:
যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’-এ সম্প্রতি নস্যাৎ হওয়া সন্ত্রাসী তৎপরতায় ইরানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা যোগাযোগ বজায় রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান।
ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার রাতে, যখন যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারের গুরুত্বপূর্ণ আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির অভিমুখে তিনটি সন্দেহভাজন ভ্যান ধেয়ে যাওয়ার তথ্য পায় স্থানীয় পুলিশ। পরবর্তীতে ঘাঁটি থেকে মাত্র ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে উইলফোর্ড এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্দেহভাজন পাঁচজনের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্ররোচনা ও প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হলেও পরবর্তীতে তাঁদের শর্তসাপেক্ষ জামিন দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, “আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে যা ঘটেছে, তাতে ইরান কোনো না কোনোভাবে সরাসরি জড়িত ছিল বলে আমাদের কাছে জোরালো এবং স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি একটি চলমান ও অত্যন্ত সংবেদনশীল পুলিশি তদন্তের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না, তবে উপযুক্ত সময়ে সমস্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হবে।
এদিকে ইউকে প্রধানমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক দাবির কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাজ্য চরম ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরাগচি লেখেন, “বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা তথাকথিত মারাত্মক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের পরপরই জামিনে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে এই অভিযোগের সত্যতা কতটা ফাঁপা ও সাজানো।”
অন্যদিকে, মারাত্মক অভিযোগে ধৃত পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার পদক্ষেপে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের জামিন দেওয়া একেবারেই অনুচিত ছিল। তাঁদের এভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় আমি অত্যন্ত বিস্মিত।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্পষ্ট করেন যে, মূল তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে তাঁদের মুক্ত করা হলেও পাঁচজনের ওপর কঠোর ও নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা সংস্থা ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত পেশাদারত্বের সঙ্গে তদারকি করছে এবং মার্কিনী মিত্রদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ফেয়ারফোর্ডের ঘটনার পেছনে একটি বিদেশি শক্তির কালো হাত স্পষ্ট। বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে হামলা চালানোর যে প্রকাশ্য হুমকি ইরান প্রতিনিয়ত দিয়ে আসছে, এটি তারই একটি অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি বহু দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় ঘাঁটিটি থেকে বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকেই মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানোর বিশেষ অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
