ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ফিরে দেখা জুলাই আন্দোলন: প্রথম শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদী এক অবিস্মরণীয় নাম

ফিরে দেখা জুলাই আন্দোলন: প্রথম শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদী এক অবিস্মরণীয় নাম

জহিরুল ইসলাম রাতুল: বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি শোকাবহ দিন। বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন “ঢাকা টাইমস”-এর স্টাফ রিপোর্টার হাসান মেহেদী। সংঘর্ষের মধ্যেও সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাথায় ছররা গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তিনি জুলাই আন্দোলনের “প্রথম শহীদ সাংবাদিক” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

১৮ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ী ও হানিফ ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নিলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের মতো হাসান মেহেদীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র সংগ্রহ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছোড়া গুলি ও ছররা তার মাথা ও শরীরে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

হাসান মেহেদীর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, গোটা সংবাদমাধ্যম অঙ্গনের জন্য ছিল অপূরণীয় ক্ষতি। একজন সাংবাদিকের হাতে অস্ত্র থাকে না—থাকে কলম, ক্যামেরা ও সত্য তুলে ধরার দায়বদ্ধতা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিনি জীবন উৎসর্গ করেন। তার মৃত্যু সংবাদ দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজে গভীর শোকের সৃষ্টি করে এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন হাসান মেহেদীর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে তার আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক অনন্য নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

জুলাই আন্দোলনের সময় বাংলাদেশজুড়ে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং সহিংসতায় শত শত মানুষ প্রাণ হারান ও হাজারো মানুষ আহত হন। ১৮ জুলাই ছিল সেই আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি। বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং গণমাধ্যম সে দিনের ঘটনাবলিকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রাণহানির নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।

হাসান মেহেদীর সহকর্মীরা বলেন, তিনি ছিলেন সাহসী, দায়িত্বশীল এবং পেশার প্রতি নিবেদিত একজন সংবাদকর্মী। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও নির্ভীকভাবে মাঠে থেকে তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল তার অভ্যাস। সংবাদকে মানুষের কাছে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়ার এই দায়বদ্ধতাই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের বিনিময় দাবি করে।

আজও জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস উচ্চারিত হলে শহীদ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্মরণ করা হয় সাংবাদিক হাসান মেহেদীকেও। তিনি শুধু একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদক নন; তিনি এমন একজন সংবাদযোদ্ধা, যিনি সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য দায়িত্ব, সাহস ও পেশাদারিত্বের এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে