ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ ভেরিফিকেশনে যুক্ত হচ্ছে এনএসআই: চাকরিপ্রার্থীদের উৎকণ্ঠা

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ ভেরিফিকেশনে যুক্ত হচ্ছে এনএসআই: চাকরিপ্রার্থীদের উৎকণ্ঠা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর শুরু হবে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশন। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবারই প্রথম যুক্ত হয়েছে এই গোয়েন্দা তদন্ত। এদিকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের চার মাস পরও যোগদান আটকে থাকা এবং একের পর এক নতুন শর্ত যুক্ত হওয়ায় নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা এখন চরমে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও প্রশিক্ষণের আগে বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (ডিপিই) স্মারকলিপি দিয়েছেন।

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, টাঙ্গাইলসহ দেশের প্রায় সব জেলার পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ এখন শেষ ধাপে রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েছি। মোট ১৯৭ জন চাকরিপ্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ আমাদের এখানে চলমান। পুলিশ বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই তদন্তকাজ পরিচালনা করছে।’

লালমনিরহাট জেলা পুলিশের ডিআইও-১ (ডিএসবি) এস এম মঞ্জুরে মওলা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত ২৩০ জন প্রার্থীর ভেরিফিকেশন কাজ আমরা করছি। আমাদের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পুলিশের এই ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

তবে মাঠপর্যায়ে পুলিশের এই যাচাই শেষ হলেও প্রার্থীরা এখনই নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না। কারণ, এর পরপরই শুরু হবে নতুন যুক্ত হওয়া গোয়েন্দা তদন্তের প্রক্রিয়া। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এ প্রসঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে জেলাগুলোতে পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশি ভেরিফিকেশনের পর জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) আরও একটি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এই দুটি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পর নির্বাচিত শিক্ষকদের যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর নির্বাচিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের চূড়ান্ত পদায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল। এতে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশ পান। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ডোপ টেস্টসহ) ও সব ধরনের সনদ যাচাইয়ের কাজ শেষ করা হয়।

মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার নতুন শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। নতুন শিক্ষকদের যোগদানের পর প্রথম দুই বছর শিক্ষানবিশকাল হিসেবে গণ্য হবে। এই দুই বছর পর চাকরি স্থায়ী করার ক্ষেত্রে মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা হবে। শর্তগুলো হলো অনুকূল পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, সন্তোষজনক এনএসআই ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, প্রশিক্ষণের সফল ফলাফল এবং এই দুই বছর চাকরিকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে কাজের দক্ষতা। এই চার দিক ইতিবাচক হলেই চাকরি স্থায়ী করা হবে।

এর আগে গত ৩ মে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আটকে থাকা ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থীকে খুব শিগগির নিয়োগ দেওয়া হবে। এই তালিকা থেকে কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না, তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকবে। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষকতা করার জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতায় কোনো ঘাটতি আছে কি না, তা দেখা হবে। নিয়োগপত্র দেওয়ার পর তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য পিটিআইতে পাঠানো হবে। সেখানে যদি কেউ অকৃতকার্য হন, তবে তিনি শিক্ষক হতে পারবেন না। সবকিছুই করা হচ্ছে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য।

নিয়োগের এই নতুন নিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। চূড়ান্ত ফলাফলের পর চার মাস পার হয়ে গেলেও কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারায় অনেকেই অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। নীলফামারী জেলার এক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগের দুশ্চিন্তায় সম্প্রতি গুরুতর হৃদ্‌রোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়েছেন বলে তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা জেলার এক প্রার্থী  বলেন, ‘আমরা মেধার প্রমাণ দিয়ে নির্বাচিত হয়েছি। নিয়োগের আশায় আগের চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে এখন চরম আর্থিক অনটনে আছি। একেকবার একেক নিয়ম আসায় আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে ভুগছি।’

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে