ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

জনগণের নজিরবিহীন ও বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর জমকালো উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস : নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই বৈশ্বিক সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন উচ্চপর্যায়ের বক্তা, ৩০০ জনের বেশি প্রতিনিধি এবং ১ হাজারেরও বেশি আমন্ত্রিত অতিথি যোগ দিয়েছেন। আমন্ত্রিতদের মধ্যে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, খ্যাতনামা কূটনীতিক, বিশ্ব রাজনৈতিক নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত রয়েছেন।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সাধিত করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার। আমরা এখন আর কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ নেই, সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি।”

বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগের এক আকর্ষণীয় কেন্দ্রস্থলে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা ও স্থিতিশীলতা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবে। সরকার উৎপাদন, প্রযুক্তি, সেবা ও রপ্তানিসহ সব সম্ভাবনাময় খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষার যুগান্তকারী নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তুলে ধরে জানান, সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে সরাসরি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো হবে, যা দরিদ্রতম পরিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দিতে ‘কৃষক কার্ড’, চিকিৎসা নিশ্চিতে ‘হেলথ কার্ড’ এবং শেষ পর্যায়ে সমন্বিত নাগরিক সেবার জন্য ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ চালুর রূপরেখা দেন তিনি।

তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা বিস্তৃত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কথা পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি, কারিগরি শিক্ষার বিস্তার, স্নাতকোত্তর পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও উপবৃত্তি প্রদানের সরকারি সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি।

দেশের তরুণ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে শক্তিতে রূপান্তর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, স্টার্ট-আপ সহায়তা এবং তরুণদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য তরুণদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার উপযোগী করা এবং দেশের ‘ব্রেইন ড্রেন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করা।”

কৃষি ও গ্রামনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি ও পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন, বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পন্ন করার বার্তা দেন তারেক রহমান। একই সাথে সবুজ রূপান্তরের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি নীতিমালার কথা উল্লেখ করেন। তিনি গর্বের সাথে জানান, বিশ্বের সেরা ১০০টি ‘লিড সার্টিফাইড’ কারখানার মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক ভাবধারার প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার কথা বলেন।

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে তুলে ধরে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।” এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের সমাপ্তিতে বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সবসময় পরস্পরের প্রতি সম্মান, ইতিবাচক সংলাপ এবং বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্বে বিশ্বাস করে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অব্যাহত রেখে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এক অভিন্ন সমৃদ্ধির অঞ্চলে রূপান্তরে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে