জীবনযাপন ডেস্ক
গাজরকে স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় রাখা হয় মূলত এর বিটা-ক্যারোটিনের জন্য। শরীরে গিয়ে এই উপাদান ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখ, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে গাজরের পুষ্টি পেতে শুধু এটি খাওয়াই যথেষ্ট নয়; কীভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেটিও কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ।
কাঁচা গাজর যেমন সহজ ও সুস্বাদু, তেমনি অল্প তাপে রান্না করা গাজর থেকেও পাওয়া যেতে পারে বাড়তি সুবিধা। কারণ তাপের সংস্পর্শে গাজরের শক্ত কোষীয় কাঠামো কিছুটা নরম হয়। এতে ভেতরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরের জন্য তুলনামূলক সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
কাঁচা গাজরে সমস্যা কোথায়?
কাঁচা গাজরের কোষগুলো বেশ শক্ত থাকায় এর কিছু পুষ্টি উপাদান শরীরের পক্ষে পুরোপুরি ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বিটা-ক্যারোটিনের শোষণ রান্না করা গাজরের তুলনায় কম হতে পারে। কিছু গবেষণায় কাঁচা গাজর থেকে বিটা-ক্যারোটিন শোষণের হার প্রায় ৩ শতাংশের মতো পাওয়া গেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে কাঁচা গাজর উপকারী নয়। সালাদ কিংবা নাশতা হিসেবে কাঁচা গাজর খাওয়াও ভালো খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
অল্প রান্নায় বাড়তে পারে শোষণ
গাজর বেশি সময় বা অতিরিক্ত তাপে রান্না করার প্রয়োজন নেই। অল্প সময় ভাপে সিদ্ধ, হালকা ভাজা কিংবা রোস্ট করলেই এর কাঠামো নরম হয়ে যায়। ফলে বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ব্যবহারের সুযোগ বাড়ে।
ভাপে রান্না করা গাজর এ ক্ষেত্রে সহজ একটি পদ্ধতি। এতে গাজরের স্বাদ ও গঠনও অনেকটা বজায় থাকে।
তেলের সঙ্গে খেলে বাড়তি সুবিধা
গাজরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিটা-ক্যারোটিন চর্বিতে দ্রবণীয়। তাই সামান্য স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে গাজর খেলে এটি শরীরে শোষিত হওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে।
এ জন্য গাজরের সঙ্গে অল্প অলিভ অয়েল বা ক্যানোলা অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। কাঁচা গাজরের সালাদেও তেলভিত্তিক ড্রেসিং, অ্যাভোকাডো কিংবা বীজ যোগ করা যেতে পারে।
পাঁচ মিনিটেই প্রস্তুত
দ্রুত গাজর খেতে চাইলে অল্প অলিভ অয়েলে কয়েক মিনিট হালকা ভেজে নেওয়া যায়। প্রায় পাঁচ মিনিটের এই রান্নায় গাজর পুরোপুরি নরম না করেও খাওয়া সম্ভব। স্বাদ বাড়াতে সামান্য কালো গোলমরিচ ব্যবহার করা যেতে পারে।
তাহলে কোনভাবে খাবেন?
গাজর খাওয়ার ক্ষেত্রে কাঁচা না রান্না—এমন একটিমাত্র নিয়ম মানতেই হবে, বিষয়টি এমন নয়। কাঁচা গাজর খাওয়া যায়, আবার পুষ্টি শোষণের সুবিধার জন্য অল্প তাপে রান্না করেও খাওয়া যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অতিরিক্ত রান্না না করা এবং সম্ভব হলে সামান্য স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে খাওয়া। এতে গাজরের বিটা-ক্যারোটিন শরীরের কাজে লাগার সুযোগ বাড়তে পারে।
