ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » পুতিনহীন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে রাশিয়া

পুতিনহীন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে খোদ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিজের বলয়েই ফাটল ধরতে শুরু করেছে। ক্রেমলিনের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, রাশিয়ার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী অভিজাতরা (Elites) এখন মনে করছেন যে, পুতিন দেশকে একটি ‘অন্ধ গলির’ দিকে নিয়ে গেছেন এবং তাঁর পক্ষে আর রাশিয়ার ভবিষ্যৎ গঠন করা সম্ভব নয়। বিখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এ বেনামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে।

 

 

ভাষার পরিবর্তন ও পুতিনের সাথে দূরত্ব
সাবেক ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মস্কোর সরকারি কর্মকর্তা, আঞ্চলিক গভর্নর এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা এখন পুতিনের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেওয়ার সময় আর ‘আমরা’ (প্রথম পুরুষ বহুবচন) শব্দটি ব্যবহার করছেন না। এর পরিবর্তে তারা পুতিনকে ‘তিনি’ বলে সম্বোধন করছেন। ভাষার এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনই প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার নীতিনির্ধারকরা পুতিনের সিদ্ধান্তের সাথে নিজেদের সংহতি প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। গত বছরের বসন্তকাল থেকেই এই দূরত্বের শুরু, যা বর্তমানে আরও প্রকট হয়েছে।

 

 

অভিজাতদের ওপর রাষ্ট্রীয় কোপ ও ৬০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত
পুতিনের প্রতি রুশ ধনকুবেরদের এই অনীহার অন্যতম প্রধান কারণ তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে আঘাত লাগা। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই অভিজাতদের বিদেশে বসবাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পশ্চিমা আইনের সুরক্ষাও তারা হারিয়েছেন। এর ওপর গত তিন বছরে ক্রেমলিন বেসরকারি ব্যবসায়ীদের প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ সরাসরি জাতীয়করণ করেছে অথবা পুতিনের ঘনিষ্ঠ দোসরদের মধ্যে পুনর্বন্টন করেছে।

 

নিবন্ধে বলা হয়েছে, “এমন নয় যে এই অভিজাতরা হঠাৎ করে গণতন্ত্র বা আইনের শাসনের ভক্ত হয়ে উঠেছেন। তবে তারা নিজেদের টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এমন একটি আইনি কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান চান যা নিরপেক্ষভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতে পারে।”

 

অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও জনগণের ক্ষোভ
ইউক্রেন যুদ্ধের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ রুশ নাগরিকদেরও। লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, অতিরিক্ত করের বোঝা, ভেঙে পড়া অবকাঠামো এবং কঠোর সেন্সরশিপের কারণে দেশের অভ্যন্তরে পুতিনের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে ঠেকেছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে সুদের হারও আকাশচুম্বী, যার ফলে রুশ কোম্পানিগুলো ঋণখেলাপি হচ্ছে এবং দেশে বড় ধরণের আর্থিক সংকটের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

 

 

বিদ্রূপের বিষয় হলো, পুতিন যে ক্ষমতা ও ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, সেই যুদ্ধের কারণেই আজ সাধারণ রাশিয়ানরা প্রথমবারের মতো ‘পুতিনহীন এক রাশিয়ার’ ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে শুরু করেছে।

 

প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১. ভয়ের শাসন: অভিজাতদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ক্রেমলিনের দমনপীড়ন এবং ভয়ের সংস্কৃতির কারণে এখনই কোনো প্রকাশ্য বিদ্রোহের সম্ভাবনা নেই।
২. আদর্শিক সংকট: ক্রেমলিন এখন আর সাধারণ মানুষের কাছে রাশিয়ার আধুনিকীকরণ বা জাতীয় পুনরুত্থানের কোনো গল্প বিক্রি করতে পারছে না, কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত রাশিয়ার বিপুল অর্থ ও প্রাণহানি ঘটছে।
৩. কূটনৈতিক একাকীত্ব: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে রাশিয়া যেভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব খাটাত, সেই সুযোগও এখন সংকুচিত হয়ে এসেছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে