লাইফস্টাইল ডেস্ক
জুতো খুলতেই যদি পা থেকে তীব্র গন্ধ বের হয়, তা যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি আশপাশের মানুষের জন্যও বিরক্তিকর হতে পারে। মাঝে মাঝে পায়ে দুর্গন্ধ হওয়া স্বাভাবিক। তবে কিছু অভ্যাসের কারণে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।
পায়ে ঘাম, তাপ ও আর্দ্রতার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেই সাধারণত দুর্গন্ধ তৈরি হয়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি ছাড়াও হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ কিংবা পায়ের সংক্রমণ এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। কিশোর-কিশোরী ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।
প্রতিদিন একই জুতো পরা
প্রতিদিন একই জোড়া জুতো ব্যবহার করলে পায়ের ঘাম ও আর্দ্রতা জুতোর ভেতরে জমে থাকে। এতে দুর্গন্ধ তৈরি করা ব্যাকটেরিয়া বেড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই সম্ভব হলে কয়েক জোড়া জুতো পালা করে ব্যবহার করা ভালো।
জুতো শুকানোর সুযোগ না দেওয়া
জুতো ব্যবহারের পর সেটিকে শুকানোর সময় না দিলে ভেতরে আর্দ্রতা থেকে যায়। ব্যবহারের পর জুতো এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে বাতাস চলাচল করে এবং পরিবেশটি শুষ্ক। দীর্ঘ সময় অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় জুতো রেখে দিলে দুর্গন্ধ আরও বাড়তে পারে।
দুর্গন্ধ কমাতে জুতোর ভেতরে কিছুক্ষণ বেকিং সোডা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ব্যবহারের আগে জুতোর উপকরণের সঙ্গে এটি মানানসই কি না, তা খেয়াল রাখা জরুরি।
পা পরিষ্কার না রাখা
পায়ে ঘাম ও ময়লা জমে থাকলে দুর্গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই নিয়মিত পা পরিষ্কার করা জরুরি। জুতো পরার আগে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ভেজা রেখে জুতো পরা ঠিক নয়। উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে জীবাণু দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে।
অপরিষ্কার মোজা পরা
পায়ের ঘাম শোষণ করে রাখতে মোজা বেশ কার্যকর। তবে এক জোড়া মোজা বারবার না পরে নিয়মিত পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করতে হবে। ঘাম বেশি হলে এমন মোজা বেছে নেওয়া ভালো, যা আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে এবং পায়ে অতিরিক্ত গরমভাব তৈরি করে না।
জুতো ও মোজা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পা শুকনো রাখার অভ্যাস করলে দুর্গন্ধের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে নিয়মিত পরিচর্যার পরও দুর্গন্ধ থেকে গেলে বা এর সঙ্গে চুলকানি, ত্বকের পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
